
নয়াদিল্লি,: প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নতুন ভবন ‘সেবা তীর্থ’ এবং কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের ‘কর্তব্য ভবন ১ ও ২’ বিকশিত ভারতের যাত্রায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এমনটাই বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি উল্লেখ করেন, এই নতুন ভবনগুলো নাগরিক-কেন্দ্রিক শাসন এবং জাতীয় অগ্রগতির প্রতি সরকারের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
নতুন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ‘সেবা তীর্থ’ এবং কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের ভবনগুলোর উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ভবনগুলো ভারতের জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছে।তিনি বলেন, “সেবা তীর্থ এবং কর্তব্য ভবন ১ ও ২ বিকশিত ভারতের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। এগুলো নাগরিক-কেন্দ্রিক প্রশাসন এবং রাষ্ট্রের উন্নতির প্রতীক।” এই উপলক্ষে তিনি একটি স্মারক ডাকটিকিট ও মুদ্রাও প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আজ দেশ এক নতুন ইতিহাসের সূচনা দেখছে।শাস্ত্রীয় ক্যালেন্ডার ও বর্তমান সময়পঞ্জির উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিকশিত ভারতের সংকল্প নিয়ে সেবা তীর্থ ও কর্তব্য ভবনে প্রবেশ করা একটি শুভ লক্ষণ। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর সাউথ ব্লক ও নর্থ ব্লক থেকে বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, সেই ভবনগুলো ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রতীক। ১৯১১ সালে ঔপনিবেশিক মানসিকতা নিয়ে তৈরি সেই ভবনগুলো এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রায়সিনা হিলসের পুরনো ভবনগুলো এমনভাবে তৈরি ছিল যাতে সেগুলো অন্য সব ইমারতের চেয়ে প্রভাবশালী দেখায়। কিন্তু ‘সেবা তীর্থ’ মাটির কাছাকাছি এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এখানে নেওয়া সিদ্ধান্ত কোনো সম্রাটের ইচ্ছায় নয়, বরং ১৪০ কোটি দেশবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী হবে।তিনি জানান, এতদিন কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক ৫০টিরও বেশি স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় বছরে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা ভাড়া গুনতে হতো। নতুন ভবনের ফলে এই খরচ কমবে এবং কাজের দক্ষতা বাড়বে।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, নাম পরিবর্তন কেবল শব্দের বদল নয়, বরং স্বাধীন ভারতের নিজস্ব পরিচয় প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা। রাজপথ থেকে ‘কর্তব্য পথ’ বা রেস কোর্স রোড থেকে ‘লোক কল্যাণ মার্গ’—সবই ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে মুক্তির প্রতীক। তিনি আধিকারিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা এখানে অধিকার দেখাতে আসিনি, দায়িত্ব পালন করতে এসেছি।” মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অধিকারের বিশাল ইমারত কর্তব্যের ভিতের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে। ২০৪৭ সালের বিকশিত ভারত কেবল লক্ষ্য নয়, এটি রাষ্ট্রের সংকল্প।
