Country

2 hours ago

Dr. Jitendra Singh: উদ্ভাবন ও গবেষণা একক প্রচেষ্টায় করা সম্ভব নয়, শিল্পজগতের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে করতে হবে,ডাঃ জিতেন্দ্র সিং

Dr. Jitendra Singh
Dr. Jitendra Singh

 

নয়াদিল্লি , ২৯ আগস্ট : সিএসআইআর-এর অধীনস্থ কলকাতার সেন্ট্রাল গ্লাস অ্যান্ড সেরামিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিজিসিআরআই)-এর বর্ষব্যাপী হীরক জয়ন্তী উদযাপনের সমাপ্তি হল বৃহস্পতিবার। এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ভূবিজ্ঞান মন্ত্রী ডাঃ জিতেন্দ্র সিং ভবিষ্যতে ভারতের প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে শিল্পজগতের সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এই বিষয়ে জানিয়েছে ভারত সরকারের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) ।

পিআইবি-র তরফে জানানো হয়েছে , হীরক জয়ন্তীর সমাপ্তি অনুষ্ঠানে কলকাতায় সিজিসিআরআই-এর এমএন সাহা প্রেক্ষাগৃহে মন্ত্রী বলেন, ভারতের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে সরকারের অনুদানের উপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। উদ্ভাবনমূলক বিভিন্ন উদ্যোগে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিশ্চিত করতে এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে শিল্পজগতের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি টিকা উদ্ভাবন এবং জম্মু-কাশ্মীরে ল্যাভেন্ডার চাষের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেন। শিল্প সংস্থাগুলি কীভাবে বিভিন্ন গবেষণামূলক উদ্যোগে যুক্ত হয়ে সাধারণ মানুষের জীবিকার নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে এবং বাজারের চাহিদা অনুসারে নানা পণ্য উৎপাদনে সহায়ক হয়েছে, সেই বিষয়টি তিনি তাঁর ভাষণে তুলে ধরেন।

ডাঃ সিং বলেছেন, “এককভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের গবেষণামূলক উদ্যোগ কখনোই বাস্তবায়িত হতে পারে না। বিজ্ঞানের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পজগতের সঙ্গে যুক্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাহলেই আমরা সেমিকন্ডাকটর, পরিবেশবান্ধব হাইড্রোজেন জ্বালানী এবং কোয়ান্টাম টেকনোলজির মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবো।” সিজিসিআরআই কাঁচ এবং সেরামিক দিয়ে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রীকে স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানী ক্ষেত্রে ব্যবহৃত নানা উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

মন্ত্রী বলেন, ১৯৫০ সালে সিএসআইআর-এর প্রথম দিকের গবেষণাগার হিসেবে সিজিসিআরআই গড়ে ওঠে। নানাধরনের কাঁচ এবং সেরামিক সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি উদ্ভাবনে এই সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অপটিক্যাল গ্লাস, বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিশেষ ধরণের ইঁট, বিকিরণ প্রতিরোধী কাঁচ, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বায়ো-সেরামিকের তৈরি নানাধরনের সামগ্রী উদ্ভাবনে সিজিসিআরআই-এর গবেষণাগারের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। আত্মনির্ভর ভারত, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, স্টার্টআপ ইন্ডিয়া, জলজীবন মিশন এবং মেক ইন ইন্ডিয়ার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিজিসিআরআই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এশিয়ার বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অফ গ্লাসের সফল আয়োজন করেছে এই সংস্থা।

ডাঃ সিং জ্বালানী, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কাজে ব্যবহার করা যায় এধরনের সামগ্রী নিয়ে যে সিজিসিআরআই-এর গবেষণাগারগুলিতে কাজ চলছে সেগুলি ঘুরে দেখেন। অনুষ্ঠানে বিআইটি মেসরা-র উপাচার্য অধ্যাপক ইন্দ্রনীল মান্না এবং আইআইটি খড়গপুরের ডিরেক্টর অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কানপুর আইআইটি-র আশুতোষ শর্মা ভাষণ দেন। সিএসআইআর-এর মহানির্দেশক অধ্যাপক ডঃ শেখর সি মান্ডে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

মন্ত্রী বলেন, সিজিসিআরআই সেমিকন্ডাকটরের জন্য ব্যবহৃত উন্নতমানের সেরামিক সরবরাহ করে। এছাড়াও পরিবেশবান্ধব হাইড্রোজেন জ্বালানী উৎপাদনে ইলেক্ট্রোলাইজার সেল ব্যবহারেও সলিড অক্সাইড সরবরাহ করেছে এই সংস্থা। এই প্রতিষ্ঠান ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদী। এখান থেকে প্রতি বছর তরুণ গবেষকদের নানাধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এছাড়াও বিভিন্ন স্টার্টআপ সংস্থা ও হস্ত শিল্পীরা নানাধরনের সুযোগ সুবিধা এখান থেকে পেয়ে থাকেন।

You might also like!