kolkata

1 hour ago

Abhishek Banerjee: ‘আমরা হেরিনি, ভোট ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে’—কঠোর বার্তা অভিষেকের

Abhishek Banerjee
Abhishek Banerjee

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  বাংলার নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মধ্যেই নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।সোমেই স্পষ্ট হয়েছে বাংলার ভবিষ্যৎ। ফলাফলের ভিত্তিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। কিন্তু এই ফল মানতে নারাজ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তাঁর স্পষ্ট দাবি, ইভিএম বদলে দেওয়া হয়েছে। কাউন্টিং সেন্টারে অত‌্যাচারের সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আনার দাবিও করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় এদিন তিনি বলেন, ”আমরা হারিনি, আমাদের ভোট লুট করে হারানো হয়েছে। একশো জন প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি, ইভিএমে যদি কারচুপি নাও করা যায়, ইভিএম বদলে তো দেওয়া যায়। সেটাই হয়েছে। যে ইভিএমে ভোট হয়েছে, ১৭সি ফর্ম মেলাতে দেখা গিয়েছে তার সঙ্গে টেবিলে যে ইভিএম মেশিন দেওয়া হয়েছে, তার সিরিয়াল নম্বর মিলছে না। কল‌্যাণী, মেমারি থেকে অন্তত ১০টা করে ইভিএমের এরকম রিপোর্ট এসেছে। একশোটা বিধানসভায় এরকম হয়েছে। দুপুর ২টো থেকে সব এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এগুলো আমরা যদি আদালতে জমা দিই?”

তাঁর কথায়, ”ওই সময়ের মধ্যে বেশিরভাগ ফল সামনে আসে। কিন্তু দেখা যায় ১৫-১৮টা করে রাউন্ডে কাউন্টিং বাকি। ৩-৪টে রাউন্ড গণনা করে মিডিয়ায় দেখানো হয়েছে বিজেপি জিতে যাচ্ছে। আদালত বলেছিল, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে রাজ‌্য সরকারের কর্মীদেরও রাখতে হবে। রাখা হয়নি। পূর্ব মেদিনীপুরে তো সব কেন্দ্র সরকারি কর্মী ছিল। এইভাবে লুট হয়েছে!”

তাঁর প্রশ্ন, ”তৃণমূল আর বিজেপির ভোটের ব‌্যবধান কত? ৩২ লক্ষ। ৩০ লক্ষ ভোটারদের প্রথমেই বাদ দেওয়া হল। ৭ লক্ষ নতুন ভোটার যোগ করলেন। ১০-১৫ লক্ষ কাউন্টিংয়ে কারচুপি করা হয়েছে। কীসের বাংলার জনাদেশ? কাউন্টিং সেন্টারে অত‌্যাচারের সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আনুক। যদি এটা জনাদেশ হয় তাহলে সেটা সবার সামনে প্রকাশ করুক কমিশন। বিশেষ করে ১২টার পর থেকে কী হয়েছে তার সিসিটিভি ফুটেজ রিলিজ করুক।”


মঙ্গলবার সকালে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলির সামনে থেকে সরানো হয়েছিল ব্যারিকেড। বিকেলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরের সামনে থেকে সরল বিশেষ নিরাপত্তা।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখার পরই ক্যামাক স্ট্রিটে খোলা হয়েছিল তৃণমূলের কার্যালয়। সেখান থেকেই চলত দলের যাবতীয় কাজ। ক্য়ামাকস্ট্রিটে বসেই গোটা রাজ্যে উপর নজর রাখতেন খোদ অভিষেক। স্বাভাবিকভাবেই সেই কার্যালয় চত্বর মোড়া থাকত পুলিশ-নিরাপত্তায়। কার্যত মাছিও গলার উপক্রম ছিল না। রাজ্যে পালাবদল হতেই মঙ্গলবার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের কার্যালয়ের সামনে থেকে সরল নিরাপত্তা। 

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে কালীঘাটে দেখা গিয়েছিল পরিবর্তনের হাওয়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে সুরক্ষার জন্য রাখা গার্ডরেল সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলে আর বাধা নেই। বাইক, গাড়ি অনায়াসে যাতায়াত করছে। তবে মমতার বাড়ির ঠিক সামনে এখনও পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে। সেখানে কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষীও রয়েছেন। তাঁরা অবশ্য এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। আসলে সরকার বদলের পর বিধি মেনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে থেকে ধাপে ধাপে নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সেই নিয়ম মেনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাড়ির সামনে থেকে গার্ডরেল খোলার কাজ শুরু হয়েছে। তিনি এখন ন্যূনতম নিরাপত্তা পাবেন। অর্থাৎ জনাকয়েক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকবেন বাড়ির সামনে।  


 এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে থেকে সরল নিরাপত্তা। এতদিন নিরাপত্তার চাদরে মোড়া থাকত যে শান্তিনিকেতন, এখন সেখানে পড়ে শুধুই ফাঁকা চেয়ার। নেই একজন পুলিশ কর্মীও। এবার সাংসদ হিসেবে যা নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, ততটুকুই পাবেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। বাংলার ভার এখন বিজেপির কাঁধে। স্বাভাবিকভাবেই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা কাটছাঁট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালেই কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনের গলির ব্যারিকেড খুলে দেওয়া হয়। ফলে যে রাস্তা দিয়ে এতবছর আমজনতা অনুমতি ছাড়া যাতায়াত করতে পারতেন না, এবার তা সর্বসাধারণের জন্য খোলা। এদিন বিকেলেই অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের সামনের নিরাপত্তা সরিয়ে দেওয়া হয়।

জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার রাতেই লালবাজারের তরফে নির্দেশিকা দিয়ে আজ অর্থাৎ বুধবার সকালের মধ্যে হরিশ মুখার্জি রোডের অভিষেকের বাড়ির সামনের বিশেষ নিরাপত্তা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। ইতিমধ্যেই সেই নির্দেশিকা কার্যকর হয়েছে। অভিষেকের বাড়ির সামনে দুপাশে ছিল দুটি পুলিশ কিয়স্ক। ছিল ব্যারিকেড। সর্বক্ষণ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকতেন পুলিশ। কিন্তু বুধবার সকালে একবারে বদলে গিয়েছে শান্তিনিকেতনের সামনের ছবিটা। ফাঁকা পুলিশ কিয়স্ক। সামনে থাকা চেয়ারগুলোও ফাঁকা। নেই একজন পুলিশও। সূত্রের খবর, কমানো হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তাও।

You might also like!