
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: কালীঘাট তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। একের পর এক নেতার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগদানের মধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে দলীয় প্রতীক নিয়েও। ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক বিদ্রোহী শিবিরের হাতে চলে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা আগেই প্রকাশ্যে এসেছিল। এবার সেই সম্ভাবনাকে ঘিরেই উদ্বেগ বাড়ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। দলীয় অন্দরে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণের হিসাব-নিকাশ।এ দিন তিনি বললেন, “প্রতীক যদি চলেও যায়, তাতে কিছু যায় আসে না। রাস্তায় বেরলে আমার কণ্ঠরোধ করতে পারবেন না। গলায় সিম্বল ঝুলিয়ে বাড়ি বাড়ি যাব। নতুন করে গড়ে তুলব।”
এ দিকে ২১ জুলাইয়ের সভা (21 July TMC Rally) নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ধর্মতলায় সভা করার অনুমতি মেলেনি। কোথায় জনসভা হবে তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই আবহে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কর্মীদের বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “রিক্সা চড়ে হলেও হবে ২১ জুলাই।”
ছাব্বিশের নির্বাচনের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিচ্ছেন অনেক তৃণমূল নেতা। সেই তালিকায় নবতম সংযোজন সদ্য প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (যদিও বিক্ষুব্ধ শিবিরে যাওয়া নিয়ে কিছু স্পষ্ট করেননি)। তারপরই শনিবার সন্ধ্যায় সোশাল মিডিয়ায় লাইভে আসেন মমতা। সেখানে প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা শোনা যায় তাঁর গলায়। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করে সিম্বল কেড়ে নিতে পারেন। যদিও আমরা জানি সিম্বল আপনার পক্ষে যাবে না। কিন্তু ধরে নিলাম যদি ভ্যানিশ কুমারবাবু (জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার) যদি সিম্বল দিয়েও দেন তাতে কি যায় আসে? সিম্বল সেটাই হয় যেটা সাধারণ মানুষ গ্রহণ করে। আমি এই সিম্বল নিয়ে লড়াই করেছিলাম। আর এখন দরকারে গলায় সিম্বল ঝুলিয়ে মানুষের কাছে যখন বেরব। আপনারা কি আমার কন্ঠরোধ করতে পারবেন?”এ দিকে ২১ জুলাই সমাবেশ নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। ধর্মতলায় সভা নিয়ে অনুমতি মেলেনি। কোথায় সেই মিটিং হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। মমতা এদিন সাফ জানিয়েছেন যে০-কোনও মূল্যে ২১ জুলাই শহিদ সমাবেশ করবেন তাঁরা। মমতা বলেন, “রিক্সা চড়েও হলেও হবে ২১ জুলাই। এখন স্থান ঠিক হয়নি। জানিয়ে দেওয়া হবে।”
পার্টি অফিস দখল নিয়ে এবার সম্মুখ সমরে তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার সন্ধ্যায় মেট্রোপলিটানের কার্যালয় থেকে যার সূচনা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা (Ritabrata Banerjee) গিয়ে পার্টি অফিসটি রীতিমতো দখল করে তালা লাগিয়ে দেন। অথচ ওই কার্যালয়েই নিয়মিত বসেন দলের সদ্য প্রাক্তন রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। যদিও শুক্রবারের ঘটনার সময়ে তিনি সেখানে ছিলেন না বলেই দাবি করেছেন। কেন পার্টি অফিস দখল হতে দিলেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) এই প্রশ্নের মুখে পড়ে শনিবার দলের পদ ছেড়ে দেন চন্দ্রিমা। এরপর বিকেলেই ফেসবুক লাইভ করে এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন কালীঘাট তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেট্রোপলিটানের তৃণমূল কার্যালয়ের নথিপত্র দেখিয়ে তিনি জানান, ‘‘আমাদের আগের পার্টি অফিসটা ভেঙে পড়ছিল। তাই সেটার কাজ হচ্ছিল। এই সময়ে আমরা মেট্রোপলিটানের বাড়িটা ভাড়া নিই। মাসে মাসে ১ লাখ টাকা ভাড়া দিই চেকে। কেন তালা দিয়ে এলেন?”
শুক্রবার ভবন-দখলের পর শনিবার সকালেই তপসিয়ার পুরনো পার্টি অফিসে দেখা গেল দলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনকে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ‘‘পার্টি অফিস আমাদের মন্দিরের মতো। এখানে রোজ বসি, লোকজনের সমস্যা শুনি, সমাধানের চেষ্টা করি। এখন দুর্ভাগ্য এই যে যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তৈরি দল থেকে, তাঁরই নির্বাচন করে দেওয়া প্রার্থী হয়ে, দলের প্রতীকের জোরে ভোটে জিতে আজ ছেড়ে যাচ্ছেন, তাঁরা বেইমানি করছেন।” পার্টি অফিস সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে দোলা সেন জানান, মেট্রোপলিটানের ওই বাড়ি ভাড়ার চুক্তি ২০২৭ সাল পর্যন্ত। এর মধ্যে মালিকানাহীন অথবা ভাড়া না পাওয়ার যে অভিযোগ তুলে ঋতব্রতপন্থীরা তা দখল করেছেন, তা সম্পূর্ণ বেআইনি। তাঁর শ্লেষ, এই আচরণ যাঁরা করছে, তাঁদের মানুষের পর্যায়ে ফেলি না।”
ফেসবুক লাইভে একই অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রীতিমতো রসিদ দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘‘মাসে মাসে ১ লাখ টাকা করে ভাড়া দিই চেকে। আর আপনারা বলছেন, ভাড়া দেওয়া হয় না? বলা হচ্ছে, মালিকানাহীন? আমাদের পার্টি অফিসে কাজ হয়। কোথাও কোনও পার্টি অফিস না থাকলেও মানুষের কাজ হবে। আমার এই ৩০ বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট গোড়া থেকেই দলীয় কার্যালয় হিসেবে আছে এবং থাকবে। নিশ্চিন্তে থাকুন, আমি থাকব।”
