
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তর আয়ারল্যান্ডে একটি ছুরি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ব্রিটেনের বিভিন্ন অংশ। শরণার্থী ও অভিবাসন নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে রাস্তায় নেমেছেন শত শত বিক্ষোভকারী। প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক শহরে, কোথাও কোথাও বিক্ষোভে বর্ণবিদ্বেষী স্লোগান ও অভিবাসীবিরোধী মনোভাবও সামনে এসেছে। ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবারের একটি হামলা থেকে। অভিযোগ, সুদান থেকে আসা এক অভিবাসী ছুরি নিয়ে এক আইরিশ নাগরিকের উপর আক্রমণ চালায়। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। প্রথমে উত্তর আয়ারল্যান্ডে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে ব্রিটেনের অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে, যার জেরে নতুন করে অভিবাসন ও শরণার্থী ইস্যুতে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
গত সোমবার উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে ঘটে ভয়ংকর ঘটনাটি। সুদান থেকে আসা এক শরণার্থী ছুরি নিয়ে হামলা চালায় এক আইরিশ ব্যক্তির উপর। ৪৪ বছর বয়সি ওই আইরিশ ব্যক্তির বাঁ চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। মুখে এবং পিঠে গুরুতর আঘাত লেগেছে। কেন এই আক্রমণ, সেই নিয়ে অবশ্য কিছু জানা যায়নি। সুদানের ওই শরণার্থীকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে প্যারিস ও ডাবলিন হয়ে সে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছিল। এরপরই সে অ্যাসাইলামে থাকার আবেদন করে। ২০২৮ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনে থাকার অনুমতি পেয়েছিল।
এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে গোটা ব্রিটেন। মঙ্গলবার থেকেই উত্তর আয়ারল্যান্ডের নানা শহরে জমায়েত হচ্ছেন আইরিশরা। তাঁদের অধিকাংশের পরনে কালো পোশাক এবং মাস্ক। একই ছবি স্কটল্যান্ডেও। কৃষ্ণাঙ্গ এবং শরণার্থীদের বিরোধিতা করে কালো হুডি পরেছেন প্রতিবাদীরা। বেশ কয়েকটি জায়গায় পুলিশের গাড়ি, বাসে আগুন ধরিয়েছেন তাঁরা। ১২ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন এই বিক্ষোভে। পরে জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার এই ইস্যুতে মুখ খুলেছেন সংসদে। প্রতিবাদীদের শান্ত থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। আক্রান্তের পরিবারও জানিয়েছেন, সহিংস প্রতিবাদ চান না তাঁরা। জানা গিয়েছে, আয়ারল্যান্ডে বসবাসকারী বহু অভিবাসীদের বাড়ি লক্ষ্য করেও হামলা হচ্ছে। স্থানীয় সাংসদের আশঙ্কা, এই প্রতিবাদ খুব তাড়াতাড়িই বর্ণবিদ্বেষী হয়ে উঠতে পারে। সেটা আটকানো দরকার।
