
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: কমলালেবু বিক্রি করে উপার্জিত অর্থ দিয়েই স্কুল গড়ে শিক্ষার আলো ছড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন কর্নাটকের হরেকলা হাজাব্বা। দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর এই অনন্য উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পদ্মশ্রী সম্মানও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সম্মান পাওয়ার মাত্র ছ’বছরের মধ্যেই এবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে তাঁর নাগরিকত্ব। হরেকলা হাজাব্বাকে এসআইআর সংক্রান্ত নোটিস পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় গ্রামপঞ্চায়েতে তাঁকে হাজির হয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে। একসময় কমলালেবু বিক্রি করে স্কুল তৈরির নজির গড়া এই পদ্মশ্রী প্রাপকের নাগরিকত্ব নিয়েই এবার তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।
২০২৮ সালে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে কর্নাটকে। সেই উপলক্ষে গত ৩০ জুন থেকে সেখানে শুরু হয়েছে এসআইআর-এর কাজ। এখানেই বিপাকে পড়েছেন দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান প্রাপ্ত হাজাব্বা। গত সোমবার ম্যাঙ্গালুরুর নিউ পাড়পু গ্রামে তাঁর বাড়িতে নোটিস দেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল ‘হাজাব্বা’। কিন্তু বর্তমানে তাঁর সমস্ত নথি যেমন, আধার, রেশন, ভোটার, পাসপোর্ট সর্বত্র তাঁর নাম হরেকলা হাজাব্বা। এই সমস্যার জেরেই নোটিস পাঠানো হয়েছে তাঁকে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর সমস্ত নথি-সহ পঞ্চায়েতে হাজিরা দিতে বলা হাজাব্বাকে। এদিকে গোটা ঘটনা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি তাঁর বাড়িতে যান নির্বাচন কমিশনের কর্তারা। সেখানে তাঁর সমসত নথি সংগ্রহ করে কমিশন। আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যাবতীয় ত্রুটি সংশোধন করে নেওয়া হবে। পাশাপাশি আগে পাঠানো নোটিসটিও প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, হাজাব্বা নিজে নিরক্ষর। ম্যাঙ্গালুরুর রাস্তায় কমলালেবু বিক্রি করে সংসার চলে তাঁর। বাড়িতে রয়েছে স্ত্রী ও ৩ সন্তান। তবে নিজে নিরক্ষর হলেও হাজাব্বা চেয়েছিলেন গ্রামের সকলে যেন শিক্ষিত হয়। সেই লক্ষ্যে কমলালেবু বিক্রির টাকা জমিয়ে গ্রামে একটি স্কুল তৈরি করেন তিনি। এরপরই এলাকায় তাঁর নাম হয়ে যায় অরেঞ্জ ম্যান। ২০২০ সালে পদ্মশ্রী সম্মান পান তিনি।
