
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে আয়োজিত হতে চলা সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজ়েশন (এসসিও)-এর আসন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। শুধু ইসলামাবাদ নয়, এই আঞ্চলিক জোটের অন্য সদস্য দেশগুলিকেও আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাসে গোয়ায় আয়োজিত এসসিও-র বিদেশমন্ত্রীদের সম্মেলনেও অংশ নিয়েছিল পাকিস্তান।
আগামী ২০ থেকে ২২ নভেম্বর দিল্লিতে এসসিও-র এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের সংস্কৃতিমন্ত্রী ঔরঙ্গজেব খানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে খবর। এই সম্মেলনের সঙ্গে যুক্ত কর্তাদের মতে, দিল্লিতে হওয়া এই আলোচনাপর্বে এসসিও-র সব সদস্য দেশের প্রতিনিধিকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এটি একটি বহুপাক্ষিক উদ্যোগ। ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সঙ্গে সে ভাবে সম্পৃক্ত নয় বিষয়টি। একে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখারই পক্ষপাতী নয়াদিল্লি। যদিও এই আমন্ত্রণ নিয়ে পাকিস্তানের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপড়েন অব্যাহত। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা, তার প্রত্যাঘাত হিসেবে ভারতের অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে দু’দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। বিশ্বমঞ্চে ভারত বার বার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তারা জানিয়েছে, জঙ্গিদমনে নয়াদিল্লি সর্বদাই ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাসী। অন্য দেশগুলিকে একই পথে হাঁটার আহ্বানও করে নয়াদিল্লি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে ভারতের মন্ত্রীরা প্রায় একই সুরে সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে পাকিস্তানকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতে কিরঘিজ়স্তানের রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত ২৬তম এসসিও সম্মেলনে মোদী বলেছিলেন, “সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দ্বিচারিতার কোনও স্থান নেই।” পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বরাবরই সীমান্তপারের সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে ভারত।
অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বেশ কয়েকটি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করেছিল ভারতীয় সেনা। সেই এসসিও সম্মেলন থেকে মোদীর বার্তা ছিল, “যে সমস্ত দেশ সন্ত্রাসবাদকে নিজেদের নীতির অঙ্গ করে ফেলেছে এবং সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করছে, তাদের একটিই বার্তা দেওয়া উচিত। তা হল, সন্ত্রাসবাদ কারও কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না।” অন্য দিকে, বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তান বার বার কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলেছে, যা নিয়ে দু’দেশের মধ্যে চাপানউতর অব্যাহত। কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। নয়াদিল্লির বক্তব্য, এটা ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয়। বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে উত্থাপিত করা বা তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ অনভিপ্রেত। উল্লেখ্য, দু’দেশের টানাপড়েনের মধ্যে ২০২৪ সালের অক্টোবরে এসসিও কাউন্সিলের বৈঠকে যোগ দিতে পাকিস্তান গিয়েছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। যদিও সেই সফরে পাকিস্তানের কোনও মন্ত্রীর সঙ্গে জয়শঙ্করের কোনও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়নি। আসন্ন এসসিও বৈঠকে পাকিস্তান কোনও প্রতিনিধি পাঠায় কি না, সেটাই দেখার।
