
নিউইয়র্ক ও নয়াদিল্লি, ১৭ মার্চ : রাষ্ট্রসঙ্ঘে ফের পাকিস্তানকে তুলধোনা করলো ভারত। রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পর্বথানেনি হরিশ বলেন, "আমি জোর দিয়ে বলছি, ধর্মীয় পরিচয়কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার এবং সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানোর—রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় উভয় পক্ষের দ্বারাই—যে ক্রমবর্ধমান প্রবণতা ও বিপদ দেখা দিয়েছে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের তাতে গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমাদের পশ্চিমী প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি তাদের নিজস্ব অঞ্চলে 'ইসলামোফোবিয়া' বা ইসলামভীতি নিয়ে মনগড়া কাহিনি রচনার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। প্রশ্ন জাগে মনে—ওই দেশে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর যে নৃশংস দমন-পীড়ন চালানো হয়, কিংবা অসহায় আফগানদের যেভাবে ব্যাপক হারে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়, অথবা পবিত্র রমজান মাসে যেভাবে বিমান হামলা চালানো হয়—সেগুলোকে ঠিক কী নামে অভিহিত করা উচিত?"
পি হরিশ আরও বলেন, "অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন-কে—যাকে আমাদের পশ্চিমী প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি ভারতের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে—তারা বারবার আমার দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করেছে। ভারতের মুসলমানরা—জম্মু ও কাশ্মীরের মুসলমানরা-সহ—তাদের নিজেদের পক্ষে কথা বলার জন্য নিজেরাই নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। এখানে একমাত্র যে 'ফোবিয়া' বা ভীতি দৃশ্যমান বলে মনে হয়, তা মূলত ভারতের সকল সম্প্রদায়ের—যার মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ও অন্তর্ভুক্ত—বহুসাংস্কৃতিক ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিরুদ্ধেই পরিচালিত। আমরা রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন নিজেদের সময় ও সীমিত সম্পদ এমন এক অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে নিয়োজিত করে, যা সাম্য, মর্যাদা এবং আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত—এবং যা প্রতিটি ধর্মবিশ্বাসের মানুষের জন্যই প্রযোজ্য।"
