
কলকাতা, ২৭ জুন : উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী কয়েক দিন অতি ভারী বৃষ্টির জেরে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলায় ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দক্ষিণবঙ্গে আপাতত বৃষ্টি কম হবে। কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে গরমে অস্বস্তি বজায় থাকবে।
দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার— এই পার্বত্য ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে লাগাতার বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে নদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এ ছাড়া উত্তর দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির কারণে কমলা সতর্কতা এবং দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে উত্তর-পূর্ব ও পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে, যা ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় করছে। আবহাওয়াবিদদের অনুমান, আগামী ২ বা ৩ জুলাইয়ের মধ্যে এটি বছরের প্রথম নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এই নিম্নচাপের হাত ধরেই আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে দক্ষিণবঙ্গের গাঙ্গেয় ও উপকূলবর্তী জেলা এবং বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার আগে পর্যন্ত অবশ্য দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দেখা কম। শনিবার ও রবিবার আকাশ আংশিক থেকে সম্পূর্ণ মেঘলা থাকলেও অধিকাংশ জেলায় বৃষ্টি হবে কেবল বিক্ষিপ্ত ভাবে। বৃষ্টি না হওয়ায় তীব্র গরম ও চরম অস্বস্তি বজায় থাকবে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছতে পারে, যার ফলে অনুভূত তাপমাত্রা কোথাও কোথাও ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছনোর আশঙ্কা রয়েছে।
কলকাতায় শনিবার সকাল থেকেই রোদের দাপট বজায় রয়েছে। দুপুরের পর আংশিক মেঘলা আকাশ হলেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। ফলে ঘর্মাক্ত ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া ভোগাবে শহরবাসীকে। রবিবার বিকেলের পর কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। সোমবার থেকে কলকাতায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়লেও দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলার তুলনায় মহানগরে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকবে বলেই জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর।
