
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: প্রত্যেক কর্মজীবী মানুষই চান কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি পেতে এবং ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে। কিন্তু অনেক সময় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার পরেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য বা পদোন্নতি অধরাই থেকে যায়। বাস্তুশাস্ত্র মতে, এর পিছনে শুধু পরিশ্রম নয়, কর্মস্থলের পরিবেশও বড় ভূমিকা নেয়। অফিস শুধুমাত্র কাজ করার জায়গা নয়, এটি একজন ব্যক্তির পেশাগত শক্তি, মানসিক স্থিরতা এবং সাফল্যের প্রবাহের কেন্দ্রবিন্দু। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, অফিসের ডেস্কে রাখা কিছু জিনিস অজান্তেই নেতিবাচক শক্তি তৈরি করে, যার প্রভাব পড়ে কাজের মনোযোগ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং কেরিয়ারের অগ্রগতির উপর। তাই সময় থাকতেই ডেস্কের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
১. এঁটো বাসন বা বেঁচে যাওয়া খাবার: বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, কাজের টেবিলে কখনো এঁটো কাপ, প্লেট বা টিফিনের বেঁচে যাওয়া খাবার ফেলে রাখা উচিত নয়। এটি কেবল অস্বাস্থ্যকরই নয়, বরং এর ফলে ডেস্কে নেতিবাচক শক্তি বা নেগেটিভ এনার্জি বৃদ্ধি পায়। এতে কাজে মনঃসংযোগ নষ্ট হয় এবং স্বাস্থ্যের ওপরও খারাপ প্রভাব পড়তে পারে।
২. হিংসাত্মক ছবি বা শো-পিস: অফিস ডেস্কে কোনও বন্য পশুর মূর্তি, যুদ্ধের ছবি বা হিংস্র কোনও শো-পিস রাখবেন না। এই ধরনের ছবি বা বস্তু মনে নেতিবাচক চিন্তা ও উত্তেজনা তৈরি করে। এর ফলে সহকর্মীদের সঙ্গে অকারণ বিবাদ ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে।
৩. শুকনো বা মরা গাছ: অফিস সাজাতে অনেকেই ইনডোর প্ল্যান্ট ব্যবহার করেন। কিন্তু মনে রাখবেন, মরা বা শুকিয়ে যাওয়া গাছ অথবা ফুল কখনো টেবিলে রাখতে নেই। বাস্তু মতে, শুকনো গাছ নিরাশা ও স্থবিরতার প্রতীক। এটি আপনার চারপাশের ইতিবাচক প্রাণশক্তিকে শুষে নেয়।
৪. পুরনো ও অপ্রয়োজনীয় নথি: ডেস্কে পুরনো বিলের রসিদ, কাগজের স্তূপ বা অপ্রয়োজনীয় নথি জমিয়ে রাখবেন না। এই ধরনের আবর্জনা কেরিয়ারের স্থবিরতা নিয়ে আসে। বাস্তু মতে, টেবিল পরিষ্কার ও গোছানো থাকলে নতুন সুযোগের পথ প্রশস্ত হয়।
৫. ভাঙা বা ত্রুটিপূর্ণ বস্তু: ভাঙা পেন, কাজ করছে না এমন মাউস কিংবা ফাটল ধরা কোনও শৌখিন বস্তু নেতিবাচক শক্তিকে আকর্ষণ করে। এই ধরনের জিনিস টেবিলে রাখলে কাজে বারবার বাধা আসে এবং আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কেরিয়ারে সাফল্য পেতে শুধু পরিশ্রম নয়, অফিস ডেস্কের পরিবেশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তু মেনে অশুভ জিনিসগুলি সরিয়ে ফেললে মানসিক শান্তি বজায় থাকবে, কাজের গতি বাড়বে এবং উন্নতির সম্ভাবনাও অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।
