
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাহুলের মৃত্যুর বিচার চাইতে জোট বেঁধেছে গোটা ইন্ডাস্ট্রি। গত ২৯ মার্চ তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে সমুদ্রে তলিয়ে যান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। বেশ কিছু সময় পড়ে উদ্ধার হয় তাঁর নিথর দেহ। এহেন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চরমভাবে ক্ষুব্ধ বাংলা সিনেদুনিয়ার শিল্পী ও কলাকুশলীরা। এই ঘটনা পুরো টলিপাড়ার নিরাপত্তার প্রশ্নে এক নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বাংলা সিনেমা জগতের সকল সংগঠন এক হয়ে রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছে।
বাংলা সিনেদুনিয়ার এই ধর্মঘটের প্রেক্ষিতে, আর্টিস্ট ফোরাম, ফেডারেশন, ইম্পা এবং প্রযোজকরা একত্রিত হয়ে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আজকের এই কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। ৭ মার্চ অর্থাৎ আজ থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতির আহ্বানকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে শিল্পী ও কলাকুশলীরা। এদিন সকাল থেকে টলিপাড়ার একাধিক স্টুডিওর ফ্লোরে শুটিং কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্থগিত রাখা হয়। যেখানে সাধারণত লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন সহ শুটিংয়ের নানা কার্যক্রম দিনভর চলতে থাকে, সেখানে একেবারে নীরবতা বিরাজ করছে।

এদিন সকালে বাংলা সিনেদুনিয়ার সকল সংগঠনের সদস্যরা একত্রিত হয়ে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে জমায়েত শুরু করেছেন। সূত্রের খবর, সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই সভায় উপস্থিত থাকবেন প্রিয়াঙ্কা সরকার, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, স্বরূপ বিশ্বাস, পিয়া সেনগুপ্ত-সহ আরও অনেকে। কর্মবিরতিকে সমর্থন জানাতে আসার কথা দেবেরও। যদিও প্রবীণ অভিনেতা, কলাকুশলীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়নি বলেই জানা গেল। কর্মবিরতির মাধ্যমে, সিনেদুনিয়ার সকল সদস্যরা শুধু রাহুলের বিচারের জন্য আওয়াজ তুলছেন না, বরং তারা ভবিষ্যতে শিল্পী ও কলাকুশলীদের নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যও একত্রিত হয়েছেন। পুরো সিনেদুনিয়া এক ধরনের যৌথ পরিবারের মতো এই সময় একসঙ্গে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে। অনেকেই বিশ্বাস করছেন যে, পরবর্তী বৈঠকে যদি কিছু সুরাহা পাওয়া যায়, তবে শুটিং শীঘ্রই শুরু হতে পারে।
এদিনের ধর্মঘট এবং কর্মবিরতির মাধ্যমে টলিপাড়ার পরিবেশ একেবারে থমকে গিয়েছে। সবার মনেই একটাই দাবি, রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু কেন ঘটল, তার সঠিক তদন্ত হোক, এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেজন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সিনেদুনিয়া এখন অপেক্ষা করছে পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য, যাতে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।
