
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: টলিউডে ফেডারেশন বিতর্ক ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। সেই আবহেই বুধবার সন্ধ্যায় টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওতে আয়োজিত এক বৈঠকে হাজির হয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। কয়েক মাস আগে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর জমানায় ফেডারেশনের সঙ্গে বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার নেপথ্যে কী পরিস্থিতি ছিল, তা এবার খোলাখুলিই জানালেন তিনি।
পরমব্রতের কথায়, “সেদিন আমার সদ্যজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে, দাঁতে দাঁত চেপে ক্ষমা চেয়েছিলাম। আর কোনও উপায় ছিল না তাই। আমি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিষোদগারের জন্য এখানে আসিনি। আমি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত রাগও পেশ করতে চাই না। কিন্তু আপনাদের যেহেতু বাড়ির লোক ভাবি, সেইজন্য ব্যক্তিগত অপমানের কথাটা ভাগ করে নিলাম। ভবিষ্যতে যেন এরকম পরিস্থিতি তৈরি না হয়।” অভিনেতার এই মন্তব্যে বৈঠকের পরিবেশ মুহূর্তে আবেগঘন হয়ে ওঠে। কথা বলতে বলতেই তাঁর চোখে জলও দেখা যায়। বন্ধু রুদ্রনীল ঘোষ-এর ডাকা বৈঠকে উপস্থিত হয়ে তাঁদের দীর্ঘ বন্ধুত্ব নিয়েও মুখ খোলেন পরমব্রত। তিনি বলেন, “আমি যে অধিকারে এখানে বসে কথা বলছি, তার প্রাথমিক কারণ রুদ্র আর আমার ২৫ বছরের বন্ধুত্ব। রুদ্র এবং আমার বন্ধুত্বের মধ্যে যতটা বেশি বন্ধুত্ব, তার থেকেও বেশি মতপার্থক্য রয়েছে। সেই মতপার্থক্য কখনও ব্যক্তিগত, কখনও রাজনৈতিকও। কিন্তু আমরা এই বন্ধুত্বের মধ্যে কখনও রাজনীতি আসতে দিইনি। আমার মনে হয়, আমাদের এই ইন্ডাস্ট্রিতে সবার আগে এটাই হওয়া দরকার।” একইসঙ্গে পরমব্রত ইঙ্গিত দেন, প্রাক-২০১১ সালের বাম আমলের মতো এক ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি পরিবেশ ফেরত আসুক, সেটাই তাঁর কাম্য।

এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, সঙ্গীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, অভিনেতা সৌরভ দাস, পরিচালক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, শ্রীজিৎ রায়-সহ টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন টেকনিশিয়ান গিল্ডের সদস্যরাও। বৈঠকে বহু টেকনিশিয়ান অভিযোগ করেন, অতীতে তাঁদের উপর কাউকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, কারওর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীয়ের উপর অত্যাচার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন।
ফেডারেশন নিয়ে চলা টানাপোড়েন প্রসঙ্গে সৃজিত মুখোপাধ্যায় বলেন, “ফেডারেশন দ্রুত গঠন করা হোক। মউ-চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেগুলোর বিষয়েও নজর দেওয়া হোক। প্রযোজক, পরিচালক, টেকনিশিয়ানরা সবাই একসঙ্গে বসে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে হবে।” অন্যদিকে প্রযোজক ফিরদৌসুল হাসান বাংলায় একটি সক্রিয় প্রযোজক গিল্ড গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি,“সারা ভারতে প্রযোজকদের গিল্ড থাকলেও বাংলায় কোনও সক্রিয় প্রযোজক গিল্ড নেই। বাংলায় এই গিল্ড হওয়া প্রয়োজন।” পাশাপাশি ইমপাকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। বৈঠকে সকলের অভিযোগ, মতামত, পরামর্শ শোনেন রুদ্রনীল। বৈঠকের শেষে তিনি জানান, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আমাদের চারজনকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই দায়িত্ব আমরা পালন করছি। আমাদের কাজ, টলিউড থেকে বিভিন্ন সমস্যা কালেক্ট করে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে জানানো। যাতে সকলের ভালো হয়।” পাশাপাশি তিনি তথাকথিত ‘গুপী শুটিং’ সংস্কৃতির অবসানের পক্ষেও সওয়াল করেন। এখন প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতে ফেডারেশনের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে এবং টলিউডের ক্ষমতার সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেবে।
