
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ক্যালেন্ডারে আষাঢ় মাস পড়তেই মন যেন বর্ষার অপেক্ষায় প্রহর গুনতে শুরু করে। যদিও গরমের তেজ এখনও পুরোপুরি কমেনি, তবুও মাঝেমধ্যে এক পশলা বৃষ্টি স্বস্তি এনে দিচ্ছে। আর বৃষ্টি নামলেই বাঙালির মন চায় এক কাপ গরম চা আর তার সঙ্গে মুচমুচে কিছু মুখরোচক খাবার। সেই তালিকায় পকোড়ার জুড়ি মেলা ভার।
বর্ষার সন্ধ্যা হোক কিংবা ছুটির বিকেল, ঘরোয়া আড্ডাকে জমিয়ে তুলতে পকোড়া হতে পারে আদর্শ সঙ্গী। তাছাড়া খুব কম সময়েই ঘরে থাকা সাধারণ উপকরণ দিয়ে তৈরি করা যায় এই সুস্বাদু পদ। তাই বর্ষা পুরোপুরি জাঁকিয়ে বসার আগেই জেনে নিন কয়েকটি সহজ ও জনপ্রিয় পকোড়ার কথা।
* আলুর পকোড়া: বর্ষাকালে চায়ের সঙ্গে বুঝি সবথেকে বেশি এই পকোড়াই খাওয়া হয়। বেসন জলে গুলে প্রয়োজনমতো লবণ-লঙ্কাগুঁড়ো মেশাতে হবে। আলু পাতলা ফালি করে কেটে, বেসনে ডুবিয়ে ডুবো তেলে ভাজলেই হল। টোম্যাটো সসের সঙ্গে পরিবেশন করা যায়।
* পিঁয়াজি: রেসিপি প্রায় একই বলা চলে। লবণ-লঙ্কাগুঁড়ো ছাড়াও বেসনে মেশানো যায় হলুদ, কাঁচা লঙ্কা কুচি। ফালি করে পিঁয়াজ কেটে, বেসনে চুবিয়ে তেলে ভাজলেই হল। তবে জলে গোলার সময় বেসন যেন বেশি পাতলা না হয়ে যায়, সেদিক খেয়াল রাখা জরুরি।

* পনির পকোড়া: পনিরের নিজস্ব স্বাদ নেই। তাই ছোট টুকরোয় কেটে বেসনে চুবিয়ে নেওয়া যায়। মশলাপাতি ছাড়াও বেসনে মেশানো যেতে পারে ধনেপাতা কুচি। অনেকে আবার বড় টুকরোয় কাঁটা পনির পছন্দ করেন। পরিবেশনের সময় পুদিনার চাটনি রাখা যেতে পারে সঙ্গে।
* ফুলকপির পকোড়া: মাঝারি টুকরোয় ফুলকপি কেটে নুন-জলে ভাপিয়ে নিতে হবে। তারপর বেসনের ব্যাটারে ডুবিয়ে ভাজতে হবে ডুবো তেলে। তৈরি হয়ে গেলে, উপরে ছড়িয়ে দিন গোলমরিচ গুঁড়ো। পুদিনা অথবা তেঁতুলের চাটনির সঙ্গে দিব্যি জমে যায়!
* কাঁচালঙ্কার পকোড়া: রান্নায় ঝাল বাড়াতে যে লঙ্কা ব্যবহার হয়, পকোড়ার জন্য সাধারণত তা ব্যবহার হয় না। বরং হাতের তালুর সমান লম্বা, উজ্জ্বল সবুজ রঙের বিশেষ কাঁচালঙ্কা দিয়ে তৈরি হয় পকোড়া। এতে ঝাল কম থাকে। লঙ্কা অর্ধেক ফালি করে বেসনে ডুবিয়ে ভেজে নিলেই রেডি। সঙ্গে মিষ্টি টোম্যাটো সস বা মেয়োনিজ রাখা যেতে পারে।
* ব্রেড পকোড়া: পাউরুটির টুকরো ত্রিকোণ আকারে কেটে দিয়ে, দুই স্লাইসের মাঝে মশলাদার আলুর পুর ভরে দিন। তারপর তার বেসনের পাতলা ব্যাটারে ডুবিয়ে ভেজে নিতে হবে গরম তেলে। অনেকে আবার এমন স্যান্ডউইচ না বানিয়ে কেবল একফালি পাউরুটিকেই বেসনে চুবিয়ে ভাজেন। সেক্ষেত্রে বেসনে কাঁচালঙ্কা, পিঁয়াজ, টোম্যাটো, ধনেপাতার কুচি মিশিয়ে নিতে হবে। সঙ্গে টোম্যাটো সস থাকলে আর অন্য কিছুর দরকার পড়বে না।
তবে পকোড়া খাওয়ার আনন্দ দ্বিগুণ করতে ভুলবেন না গরম চা বা কফির কথা। বাইরে টিপটিপ বৃষ্টি আর ঘরের ভেতর ধোঁয়া ওঠা চায়ের সঙ্গে মুচমুচে পকোড়ার স্বাদই যেন বর্ষার আসল আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
