Entertainment

2 days ago

Attack on Actress Badhon: ‘মামলা না করে ভেনিস ছাড়ব না’, হামলার ঘটনায় কড়া বার্তা অভিনেত্রী বাঁধনের

Azmeri Haque Badhon
Azmeri Haque Badhon

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  ইটালির ভেনিসে হামলা ও হেনস্থার ঘটনায় এবার কড়া অবস্থান নিলেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে অভিনেত্রী জানান, ঘটনার আইনি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভেনিস ছাড়ার কোনও প্রশ্নই নেই। তাঁর কথায়, ‘‘আমি কেস ফাইল না করে ভেনিস থেকে বাংলাদেশে আসছি না। এটার শেষ দেখে ছাড়ব।’’

ঘটনার পর বাঁধনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নিজে তাঁকে ফোন করেছেন বলেও জানান অভিনেত্রী। দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে থানায় গিয়ে হামলার ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবেন তিনি। ইতিমধ্যেই ঘটনার বিষয়ে যাবতীয় প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন বলেও দাবি করেছেন বাঁধন।  হামলার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়েও মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। বাঁধন জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে ঠিক আছেন। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের ঘটনা তাঁকে মানসিক ভাবে দুর্বল করে দিতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘‘আমি আমার মাথা কখনও নত করিনি। আর সেটা করতে ভুলেও গিয়েছি। তাই আমাকে ভেঙে ফেলা এত সহজ নয়।’’

বাঁধনের দাবি, ঘটনার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে এবং হামলায় জড়িত কয়েক জনকে ইতিমধ্যেই শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ তাঁকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যায়। এরপর বাংলাদেশ দূতাবাসের তরফেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দূতাবাসের আধিকারিকদের সঙ্গে থানায় গিয়ে গোটা ঘটনার অভিযোগ জানাবেন অভিনেত্রী। তবে নিজের সঙ্গে হওয়া আচরণের থেকেও পরিবারের সদস্যদের হেনস্থার ঘটনায় বেশি ক্ষুব্ধ বাঁধন। তাঁর অভিযোগ, হামলার সময় তাঁর ছোট ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী এবং তাঁদের মাত্র তিন বছরের শিশুসন্তানও দুর্ব্যবহারের শিকার হন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এমন আচরণ তাঁকে অত্যন্ত বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ করেছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।


অভিনেত্রীর বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁকে লক্ষ্য করে জল ও ডিম ছোড়া হয়। এমনকি শারীরিক ভাবেও হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। হাত থেকে মুঠোফোন ফেলে দেওয়া হয় বলেও জানিয়েছেন বাঁধন। সেই সময় তাঁর পরিবারের সদস্যেরাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় তাঁর সক্রিয় অবস্থানের কারণেই তাঁকে নিশানা করা হয়েছে। হামলাকারীদের কয়েক জন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে কটূক্তি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ বাঁধনের।

তবে ভেনিসে বেড়াতে নয়, পেশাগত কারণেই গিয়েছিলেন অভিনেত্রী। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ ছবির সূত্রেই ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। গত ৬ সেপ্টেম্বর উৎসবে ছবিটির প্রদর্শনী হয়। প্রদর্শনীর পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভেনিসে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন বাঁধন। তখনই হামলার ঘটনা ঘটে বলে তাঁর দাবি। ঘটনার পর বাংলাদেশের বহু মানুষ তাঁকে ফোন করে এবং বার্তা পাঠিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অভিনেত্রী। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সব মিলিয়ে ঘটনার পরও নিজের অবস্থান থেকে সরছেন না বাঁধন। তাঁর বক্তব্য, তাঁকে ভয় দেখিয়ে বা মানসিক ভাবে ভেঙে দিয়ে পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। মামলা দায়ের করে ঘটনার শেষ পর্যন্ত লড়াই করার পরই ভেনিস ছাড়বেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বাংলাদেশের এই অভিনেত্রী। 


You might also like!