
নয়াদিল্লি, ১২ জুন : দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির গোবিন্দপুরী এলাকায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি পাঁচ তলা আবাসিক বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, আগুন ও ধোঁয়ার মাঝখান থেকে পাঁচজনকে সুরক্ষিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় আরও দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, বর্তমানে হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লি জেলা পুলিশের ডিসিপি ডক্টর হেমন্ত তিওয়ারি শুক্রবার জানিয়েছেন, ১১ ও ১২ জুনের মধ্যবর্তী রাত প্রায় ২:২৪ নাগাদ গোবিন্দপুরী থানা পুলিশ তুঘলকাবাদ এক্সটেনশনের একটি বহুতলে আগুন লাগার খবর পায়। তথ্য পাওয়া মাত্রই স্থানীয় পুলিশ এবং থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এর পাশাপাশি দমকলের চারটি ইঞ্জিন এবং ক্যাটস অ্যাম্বুলেন্সও দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। আগুন লাগার পর পুরো বহুতলটি ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, যার ফলে অনেকেই ভেতরে আটকে পড়েন।
পুলিশ, দমকল কর্মী এবং উদ্ধারকারী দল যৌথ অভিযান চালিয়ে ধোঁয়ায় আটকে পড়া আটজনকে বাইরে বের করে সফদরজং হাসপাতাল এবং এইমস ট্রমা সেন্টারে পাঠায়। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই দুর্ঘটনায় এক ২২ বছর বয়সী যুবক এবং দুজন মহিলার মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি বাকি দুই আহত ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। গোবিন্দপুরীর তুঘলকাবাদ এক্সটেনশনের যে বহুতলটিতে আগুন লেগেছে, সেখানে প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিটকেই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পুলিশের বক্তব্য, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ বিস্তারিত তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, বহুতলের একতলায় (গ্রাউন্ড ফ্লোর) বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দেখতে দেখতে সেই আগুন সেখানে পার্ক করে রাখা সাতটি দুচাকা গাড়িকে গ্রাস করে। এর মধ্যে চার্জে বসানো একটি ইলেকট্রিক স্কুটারও ছিল। গাড়িগুলোতে আগুন লাগার পর প্রচুর পরিমাণে ধোঁয়া ছড়াতে শুরু করে, যার ফলে ওপরের তলাগুলিতে থাকা বাসিন্দারা আটকে পড়েন। দমকল বিভাগ এবং পুলিশের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধারকাজ চালায়। আধিকারিকদের মতে, ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত তদন্তের পরেই আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যাবে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং বহুতলের নিরাপত্তা মানদণ্ড, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
