West Bengal

1 week ago

Loksabha Election 2024: ভোটগ্রহণ-পর্বের পর রবিবার কী করলেন প্রার্থীরা?

Debangshu Bhattacharya & Srijan Bhattacharya (File Picture)
Debangshu Bhattacharya & Srijan Bhattacharya (File Picture)

 

দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ মিটেছে ভোটপর্ব এবার রেজাল্টের পালা। সপ্তম দফা ভোটের পরে কেটে গেল একটা গোটা রবিবার। অর্থাৎ ছুটির দিন। এতদিন নির্বাচনী আবহে এদিক ওদিক ছুটে কার্যত নাওয়া খাওয়া ভুলেছিলেন ভোটের হাই ভোল্টেজ প্রার্থীরা। কিন্তু এই রবিবার কি করলেন তাঁরা? 

বিজেপির বর্তমান ও প্রাক্তন দুই সভাপতির এই রবিবারটা কাটল ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম করে। অন্তত তিন-চার মাস বাদে একটা রবিবার দু’জনেই বাড়িতে থাকার সুযোগ পেলেন। বালুরঘাটের বাড়িতেই দিনভর ছিলেন ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তবে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে একাধিক ফোন রিসিভ করেছেন, ভার্চুয়াল মিটিংয়ে যোগ দিয়েছেন।

বাড়িতেই কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে একের পর এক মিটিং করেছেন। বর্ধমান-দুর্গাপুরের প্রার্থী দিলীপ ঘোষের ভোট মিটেছে গত ১৩ মে। সুকান্তর মতো তিনিও তারপর থেকে ব্যস্ত ছিলেন প্রচার ও সাংগঠনিক কাজে। দিলীপ বলছেন, ‘অনেক দিন পর একটা রবিবার পুরো দিনটা কাটালাম নিউ টাউনে আমার বাড়িতে। বাড়িতেই ছিলাম। অনেকে দেখা করতে এসেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে কথাবার্তা হলো। মাঝখানে একবার গিয়েছিলাম একটা টিভি ডিবেটে। তারপর বাড়িতেই ফিরে এসেছি।’

ছুটি না-নিলেও তমলুকের তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য ছুটির প্ল্যান করলেন রবিবার। নিজের কেন্দ্রে গণনার জন্য ফিরে যাবেন আজ, সোমবার। তার আগে রবিবার গিয়েছিলেন এক আত্মীয়ের বাড়িতে। সেখানেই দুপুরে খাওয়াদাওয়া। তারই মাঝে নিজের কেন্দ্রের কর্মীদের সঙ্গে ফোনে কথাবার্তা, এগজ়িট পোল নিয়ে হিসেব-নিকেশ করেছেন। আর এ সবের ফাঁকেই প্ল্যান করেছেন ভোটের রেজাল্ট বেরনোর পরে বন্ধুদের নিয়ে একটু ঘুরে আসবেন পুরী থেকে। ট্রেনে করেই পুরী যাওয়ার প্ল্যান দেবাংশুর। কিন্তু এত অল্প সময়ে কি তিনি টিকিট পাবেন?

না ভোটে জিতে এমপি কোটায় টিকিট কনফার্ম করবেন? দেবাংশু হাসেন। কলকাতা দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী মালা রায়ের অবশ্য রবিবার ছুটি ছিল না। কারণ ভোটের পরে এজেন্টদের থেকে হিসেব নেওয়া, কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক— এ সব করেই দিন কেটেছে মালার। বিকেলে আবার নিজের নির্বাচনী কার্যালয়ে গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে বসে মিলিয়ে দেখেছেন ভোটের অঙ্ক।

মালার কথায়, ‘রাজনীতিবিদদের আর ছুটি কোথায়! ভোটের ফলাফলটাই এখন সব। সে জন্য সবাইকে প্রস্তুত করতে হচ্ছে। তবে আমি তো একাই খাটিনি এই তিন মাস। আমার অসংখ্য কর্মীও ভোটে খাটা-খাটনি করেছেন। তাঁদের নিয়ে একটু খাওয়া-দাওয়ার প্ল্যান বানানো হলো রবিবার।’

সিপিএমের তিন যুবা মুখের রবিবারের মুডটা ছিল তিন রকম। যাদবপুরের প্রার্থী সৃজন ভট্টাচার্যের ভোট শেষের পরের দিনটা কেটেছে নানা এলাকায় আক্রান্ত কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে। ফলে বেলা গড়াতে না-গড়াতেই যাদবপুরের একাধিক পার্টি অফিস ঘুরে বেরিয়েছেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন দমদমের প্রার্থী সুজন চক্রবর্তীও। শ্রীরামপুরের প্রার্থী দীপ্সিতা ধর অবশ্য আড়াই মাস পর এই রবিবার একটু সময় পেলেন দুপুরের খাবারটা পরিবারের সঙ্গে খাওয়ার।

রবিবার দুপুরে সকলের সঙ্গে বসে মাংস-ভাতে রসনাতৃপ্তির আগে অবশ্য তিনি এলাকায় একটি হেলথ ক্যাম্পে গিয়েছিলেন। সেখানে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত অনেক মানুষ ছিলেন। তমলুকের প্রার্থী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে আবার দেখা গেল রবিবার সকালে খেলার মাঠে নেমে পড়েছে। তাঁর সোনাপুরের বাড়ির কাছেই একটি মাঠে ফুটবল ম্যাচে অংশ নেন সায়ন। হাত মেলান দু’দলের প্লেয়ারদের সঙ্গেও।

সিনিয়র প্রার্থীরা কী করলেন?

কলকাতা উত্তরের কংগ্রেস প্রার্থী প্রদীপ ভট্টাচার্য জানাচ্ছেন, তিন মাসের দৌড়োদৌড়ির পর এ দিন যেন তাঁর গা ছেড়ে দিয়েছিল। অনেক দিন বাদে দুপুরে বাড়িতে খাওয়া-দাওয়ার পর একটু শুয়েছিলেন। সকালে উঠে ঠান্ডা মাথায় চা খেতে খেতে খবরের কাগজটা শান্তিতে পড়েছেন। মাঝখানে গিয়েছিলেন নিজের অফিসে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে মিটিং করতে। প্রদীপেরই প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির প্রার্থী তাপস রায় অবশ্য ছুটি পাননি। তিনি সকাল থেকে ছুটলেন ‘আক্রান্ত’ কর্মীদের জন্য।

You might also like!