Video

1 year ago

বর্ধমান রাজবাড়ীর মা পটেশ্বরীর পূজা

 

Traditional Durga puja of bardhaman Rajbari মূর্তিতে নন, পটেই পূজিতা হন বর্ধমান রাজবাড়ির পটেশ্বরী দূর্গা শুধু সীতাভোগ -মিহিদানার শহর হিসাবে নয়, বর্ধমান হ'ল এমন এক ঐতিহাসিক শহর যার আনাচে কানাচে চোখ রাখলে দেখা যাবে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর সাথে যুক্ত স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও লোকগাঁথার নিদর্শন। এই প্রাচীন শহরে অনেক ইতিহাসের সাক্ষী হিসাবে এখনও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে বর্ধমানের রাজবাড়ি। সংস্কারের অভাবে ভেঙে গিয়েছে দেওয়াল, খসে গিয়েছে পলেস্তারা , বদল হয়েছে ইঁটের রঙের, ঝরে পরছে চুন সুড়কি, তবু এখনও ঐতিহ্য অটুট রয়েছে বর্ধমানের এই ঐতিহাসিক রাজ হাবেলির। সুন্দর সব নকশা এখনও রাজ ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। গা ছমছম করা পরিবেশও রয়েছে কোথাও কোথাও । এখানে রয়েছে বর্ধমান রাজবাড়ির লক্ষ্মী নারায়ণ জিউ মন্দির। জানা গিয়েছে, শিব ও মা চন্ডীকার নিত্যপুজোর সঙ্গে এখানেই পূজিতা হন পটেশ্বরী দুর্গা। এখানে দেবী মূর্তি আকারে নয়, পটে পূজিত হন। সঙ্গে থাকে মায়ের চার ছেলেমেয়ে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ। বর্ধমানের মহারাজ তখন মহাতাব চাঁদ ৩০০ বছর আগে এই পুজো শুরু করেন। রাজবাড়ির কুলদেবী দেবী চণ্ডিকা । শোনা যায়, রাজার ইচ্ছে হয়েছিল রাজবাড়িতে দুর্গাপুজো করার । সে কথা কুলপুরোহিতকে জানানো হলে তিনি নিদান দেন মূর্তি পুজো করা যাবে না । পটে এঁকে পুজো করা যেতে পারে । সেই থেকেই শুরু হয়েছিল পটেশ্বরী দুর্গার পুজো। মহাতাব চাঁদের আমলে জাঁক জনক পূর্ণ ভাবে এই পুজো অনুষ্ঠিত হতো, বাহান্ন রকমের ভোগ প্রদান করা হতো দেবীকে, দূর্গা পুজোর একমাস আগেই কিনে আনা হত এক বস্তা সুপারি। তার পর একমাস ধরে চলত সুপারি বলি দেওয়ার অনুশীলন। হাত পাকলে তবেই দেবীর কাছে সুপারি বলিদান দেওয়ার অনুমতি পাওয়া যেত। বর্ধমান রাজবাড়ির পটেশ্বরীর আরাধনায় এটাই ছিল রীতি। কিন্তু ইতিহাসের নিয়মে অনেক কিছুরই বদল হয়। রাজবাড়িতে দেবীর আরাধনা হলেও সুপারি বলির প্রথা এখন বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। ইতিহাসের নিয়মে যেমন রাজ আমলেরও বিলুপ্তি ঘটেছে। পুজোর কয়েকদিন জলসাও হত একসময়। এখন তা অতীত। কালের নিয়মে আরও কিছু সংযোজিতও হয়েছে এখানে। অবাঙালিদের হাত ধরে পটেশ্বরীর আরাধনায় ডান্ডিয়া নৃত্য এখন রাজবাড়ির পুজোর অন্যতম আকর্ষণ। গুজরাটি সম্প্রদায়ের মানুষজন বর্তমানে পটেশ্বরী পুজোয় খুঁজে নিয়েছেন নবরাত্রি উৎসবকে। বিয়োজন-সংযোজন ঘটলেও আগের মতোই রাজ পরিবার এখনও এই উৎসবের পৃষ্ঠপোষক। রাজবাড়ির বর্তমান প্রধান পুরোহিত উত্তম মিশ্র জানান, এখন রাজ আমল না হলেও পটেশ্বরীর আরাধনায় জাঁকজমকে কোনও খামতি থাকে না। রাজবাড়ির পুরনো রীতিতেই এখানে পুজো হয়। নয়দিন ধরে চলে এই পুজো নবমীতে হয় কুমারী পুজো। এখন অষ্টমী এবং নবমীতে দেবীকে লুচি-হালুয়া ভোগ নিবেদন করা হয়। জাঁকজমক কিছুটা কমলেও এখনও নিয়ম-নিষ্ঠাভরে পুজো করা হয়। চিরচারিত পুজো থেকে একটু অন্যরকম আবহের অনুভব করতে অনেকেই দূর দুরান্ত থেকে চলে আসেন বর্ধমান রাজবাড়ির পটেশ্বরী দেবীর দর্শনে। টাইম মেশিনে চড়ে যেন মন চলে যায় কয়েকশো বছর পূর্বে, বর্ধমানের রাজ ঘরানায়।প্রধান পুরোহিত উত্তম মিশ্র

You might also like!