kolkata

1 year ago

SSC Scam : এসএসসি চেয়ারম্যানকে আদালতে তলব বিচারপতি মান্থার

Justice Mantha summons SSC chairman
Justice Mantha summons SSC chairman

 

কলকাতা, ১৭ মার্চঃ  আদালতের নির্দেশের পরেও নম্বর না দেওয়ায় স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)-এর ভূমিকায় রুষ্ট কলকাতা হাই কোর্ট। এসএসসির চেয়ারম্যানকে তলব করলেন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা। আগামী শুক্রবার তিনি এসএসসির চেয়ারম্যানকে আদালতে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

স্কুল সার্ভিস কমিশন একটা প্রজন্মের ভবিষ্যত নিয়ে খেলছে বলে মন্তব্য করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি মান্থা। একটি পুরনো মামলার সূত্রে শুক্রবার তিনি কমিশনকে কটাক্ষ করে বলেন, আপনারা আদালতের সঙ্গেও খেলছেন। আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপই সন্দেহজনক। ভেবেছেন কী? জনমানসে কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে আপনাদেরই আচরণে। প্রয়োজনে সব নিয়োগ খারিজ করে দেব।

বিচারপতি মান্থা বলেন, আরও কড়া পদক্ষেপ করতে আমাকে বাধ্য করবেন না। আদালতের নির্দেশের উপরও আপনারা খবরদারি করছেন। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ভুল এবং পাঠ্যক্রমের বাইরের প্রশ্নের জন্য নম্বর না দেওয়ায় কমিশনকে এই ভাষাতেই বিঁধলেন বিচারপতি মান্থা। এই মামলায় নতুন রিপোর্ট নিয়ে কমিশনের চেয়ারম্যানকে আগামী শুক্রবার আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি।

এদিন বিচারপতি মান্থা বলেন, আমি আগেও বলেছিলাম, নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে। কিন্তু আজ দেখছি, কমিশন সেই একই পথে হাঁটছে। গত ২৯ জুন আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, ভুলের জন্য কমিশনকে অতিরিক্ত নম্বর দিতে হবে। আদালতের অভিযোগ, কমিশন ইচ্ছে করে সেই নির্দেশ অগ্রাহ্য করেছে।

বিচারপতি বলেন, কমিশনের চেয়ারম্যান যে হলফনামা দিয়েছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। সিলেবাসের বাইরের প্রশ্নের জন্য অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হবে না বলে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাতে নাকি সবাইকে নম্বর দিতে হবে। বিচারপতি মনে করিয়ে দেন, আদালত শুধু মামলাকারী ৮৩ জনকে অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

এদিন বিচারপতি বলেন, কমিশন নিয়োগ করছে। আবার কমিশনই ভুল প্রশ্ন করছে। সবটাই পরিকল্পিত। আমার বলতে কোনও দ্বিধা নেই, কমিশন একটা প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলছে। প্রয়োজনে আমি সব নিয়োগ খারিজ করে দেব। আমি সব নিয়োগ নিয়েই সন্দেহ করছি।

এদিকে এদিনই কমিশনের নিজস্ব আইনের ১৭ নম্বর ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা হল হাইকোর্টে। এই ধারার বলেই নবম-দশমের ৬১৮ জন কর্মরত শিক্ষকের সুপারিশপত্র প্রত্যাহার করে কমিশন। এই ধারায় কোনও চাকরিপ্রার্থীর সুপারিশপত্র বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে কমিশনের।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় পাঠ্যসূচির (সিলেবাস) বাইরে থেকে প্রশ্ন এসেছে অভিযোগ তুলে ৮৩ জন মামলা করেন। মামলাকারীদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী শামিম আহমেদ। গত বছর জুন মাসে মামলাকারীদের নম্বর দিতে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। কিন্তু সেই নির্দেশ এখনও মানা হয়নি বলে অভিযোগ।

শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি মান্থার মন্তব্য, “আদালতের নির্দেশের উপর এ ভাবে চালাকি করলে কড়া পদক্ষেপ করতে বাধ্য হব।”


You might also like!