Country

1 week ago

Yogi Adityanath: শপথে ‘মোদী’র সঙ্গে স্লোগান ‘যোগী’ নামেও!

Slogan with 'Modi' in the name of 'Yogi'! (Symbolic Picture)
Slogan with 'Modi' in the name of 'Yogi'! (Symbolic Picture)

 

দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ ‘লম্বি লম্বি শ্বাস লে লো! অপনা অপনা মোবাইল সাইলেন্ট কর লো, জেব পর রখ লো! ভারত কো চাঁদ পর লে যানে ওয়ালে প্রধানমন্ত্রীজি পধার রহে হ্যায়!’—ঠাঁট হরিয়ানভি উচ্চারণে ঘোষকের কথার রেশ মেলানোর আগেই চোখ পড়ল এসপিজি কম্যান্ডোদের দিকে, চকিতে পজ়িশন নিলেন তাঁরা৷ পরের মুহূর্তেই রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে বেছানো লাল কার্পেটের পাশে এসে দাঁড়াল কালো লিমুজিন৷

গাড়ি থেকে নেমে লাল কার্পেটের উপরে পা রাখলেন নরেন্দ্র মোদী, ঘড়ির কাঁটায় তখন সন্ধ্যা ৭টা ১১৷ এর পরের কয়েক মুহূর্ত অতিবাহিত হলো চোখের নিমেষে৷ রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টের সামনে উপস্থিত হাজার দশেকের ভিড় সমস্বরে চিত্‍কার করছে মোদী-মোদী বলে, আর তিনি শপথবাক্য পাঠ করছেন মৃদু স্বরে৷

সুপারস্টার রজনীকান্ত, শাহরুখ খান, অক্ষয় কুমার, মুকেশ আম্বানি, আকাশ আম্বানি, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত অতিথি, বিশিষ্টজন, বিজেপি নেতা-সহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সামনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলছেন, তখন রীতিমতো বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস রাষ্ট্রপতি ভবন জুড়ে৷ হাজার হাজার মোবাইলে ওই মুহূর্তটিকে ধরে রাখার প্রতিযোগিতা চলছে জোর কদমে। যেভাবে বাজছে সিটি, উঠছে ‘মোদী মোদী’, ‘ভারত মাতা’ স্লোগান—না বলে দিলে যে কারও ভুল হতে পারে, এটা ঐতিহ্যশালী রাষ্ট্রপতি ভবন নয়, হয়তো এটাও কোনও এক নির্বাচনী সমাবেশ৷

রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে এদিন নজর কেড়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও৷ উত্তরপ্রদেশে বিজেপির খারাপ ফলের কোনও প্রভাব যে যোগীর জনপ্রিয়তায় পড়েনি, তার প্রমাণ মিলেছে রবিবার সন্ধেয়৷ তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টে প্রবেশ করা মাত্রই উপস্থিত দশ হাজার লোক সমস্বরে ‘যোগী, যোগী’ ধ্বনিতে চিত্‍কার করে উঠেছেন৷

অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে সদ্য পরাজিত বিজেপি প্রার্থী অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়, প্রাক্তন রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী-সহ বাংলার এক ঝাঁক বিজেপি নেতাকে৷ কংগ্রেস অনুষ্ঠান বয়কট করলেও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে৷ ছিলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা মুরলী মনোহর যোশীও৷

এবার তৃতীয় মোদী সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান কোনও খোলা জায়গায় করা হবে, এমন একটি ভাবনা ছিল বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের৷ পরবর্তীকালে নিরাপত্তার কথা ভেবে সেই সম্ভাবনা বাতিল করা হয়৷ ঠিক হয়, বিদেশি অতিথি, রাষ্ট্রপ্রধান, দেশের খ্যাতনামা ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি ভবনের ফোরকোর্টেই হবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান৷ সেই মতো দিল্লির প্রচণ্ড দাবদাহের কথা মাথায় রেখে সন্ধ্যা সাতটা পনেরো মিনিটে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু করা হয়৷

বিদেশি অতিথিদের মধ্যে রবিবার প্রধানমন্ত্রী মোদীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট বিক্রমসিংঘে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু, মরিশাস, ভুটান ও নেপালের প্রধানমন্ত্রী৷ সরকারি সিলমোহর যুক্ত বিশেষ আমন্ত্রণপত্র ছাড়া সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রবেশ করতে পারেননি৷

রাষ্ট্রপতি ভবনে শপথগ্রহণ সমারোহের পরে এদিন রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, নবনির্বাচিত এনডিএ সাংসদদের সম্মানে নৈশভোজের ব্যবস্থা করেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা৷ দিল্লির প্রচণ্ড গরমের কথা মাথায় রেখে আয়োজিত এই নৈশভোজের মেনুতে ছিল ১১ রকমের শরবত ও শেক, ৬ রকমের ডেজ়ার্ট, স্টাফড লিচু, দম বিরিয়ানি, যোধপুরী সবজি, মটকা কুলফি, ম্যাঙ্গো ক্রিম, রায়তা, চার রকমের মিষ্টি, পাঞ্জাবি পরোটা, ডাল, রসমালাই, খোয়া ক্ষীর, মিলেট খিচুড়ি, বাজরা পোলাও প্রভৃতি৷

You might also like!