Country

3 weeks ago

Delhi High Court : এবার ওষুধের কুফল রোগীকে বোঝাবেন ফার্মাসিস্ট! রায় আদালতের

Medicine Symbolic Picture)
Medicine Symbolic Picture)

 

দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ প্রেসক্রিপশন লেখা ওষুধের সুফল-কুফল রোগীকে বোঝানোর দায় চিকিৎসকের উপর বর্তায় না। দেশের ড্রাগ অ্যান্ড কসমেটিক্স আইন অনুযায়ী, সাধারণ মানুষকে এ নিয়ে সচেতন করার দায়িত্ব ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা এবং ওষুধের দোকানে কর্মরত ফার্মাসিস্টের। সোমবার একটি জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি হাইকোর্ট এই রায় শোনানোর পর থেকেই তা প্রবল ভাবে চর্চিত হচ্ছে দেশের স্বাস্থ্যমহলে। মোটের উপর এই রায়ে অধিকাংশই সহমত। তবে বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে কোনও কোনও মহলে।

জ্যাকব ভড়াকানচেরি নামে এক ব্যক্তি দিল্লি হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেন।

তাঁর আর্জি ছিল, আদালত যেন কেন্দ্রীয় সরকারকে এই মর্মে নির্দেশ দেয় যে, সব চিকিৎসক যাতে প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে একটি অতিরিক্ত স্লিপে স্থানীয় ভাষায় লিখে দেন তাঁর লেখা ওষুধপত্রগুলির সম্ভাব্য ঝুঁকি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে। যদিও ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মন মোহন এবং বিচারপতি মনমিত প্রীতম সিং অরোরার ডিভিশন বেঞ্চ শুনানির পরে মামলাকারীর আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, ১৯৪৫ সালের ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিক্স অ্যাক্ট অনুসারে, এমন সতর্কবাণী ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থারই ছাপার অক্ষরে লিখে দেওয়ার কথা ওষুধের লেবেলিং অথবা সঙ্গে থাকা লিফলেটে। পাশাপাশি, ২০১৫-র ফার্মেসি প্র্যাকটিস রেগুলেশনস অনুযায়ী, একই দায় থাকে ওষুধের দোকান বা ফার্মেসি কাউন্টারে কর্মরত ফার্মাসিস্টদের। তাঁদেরই ওষুধের সুফল-কুফল, ঝুঁকি, পার্শ্ব বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি বুঝিয়ে বলার কথা ওষুধ নিতে আসা রোগী-পরিজনকে।

আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানানো হলেও এই রায় পালনের বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ওষুধের খুচরো ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বেঙ্গল কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শঙ্খ রায়চৌধুরী বলেন, 'ওষুধের সাইড এফেক্ট সম্পর্কে বাক্সের গায়ে লিখে দেওয়াটাই সবচেয়ে ভালো। ওষুধের দোকানিও প্রয়োজনে ঝুঁকির বিষয়টা বুঝিয়ে বলবেন ঠিকই। কিন্তু বাস্তব হচ্ছে, ফার্মাসিস্ট বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করলেও রোগীরা তা বুঝতে চান না। আবার ভিড়ের মধ্যে ওষুধের দোকানিও সবক্ষেত্রে সব রোগীকে সমান সময় দিতে পারেন না।'

প্রোগ্রেসিভ ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয় বিশ্বাসের কথায়, 'বাস্তবে দেখা যায়, ফার্মাসিস্টদের কাজের সেই পরিসর বা মর্যাদাই দেওয়া হয় না দেশে। দোকানে বা ফার্মেসি কাউন্টারে রোগী-পরিজনের মারাত্মক ভিড়ও একটা বড় সমস্যা।' তবে তিনি মনে করেন, আদালত যখন এমন রায় দেয়, তখন তা বাস্তবায়নের দায়িত্বও বর্তায় রাষ্ট্রের উপর। তিনি আরও বলেন, 'ফার্মেসি প্র্যাকটিস রেগুলেশন অ্যাক্ট তো ন'বছরে এখনও চালুই হয়নি রাজ্যে। সেখানে পেশেন্ট কাউন্সেলিংয়ের বিষয়ে বিশদে বলা রয়েছে।' বাস্তব ছবির কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন বিজয়- 'নব্বই শতাংশ দোকানেই তো ফার্মাসিস্ট নেই এ দেশে। হাসপাতালের ফার্মেসি এবং বড় দোকান বা রিটেল চেন ছাড়া আর ক'টা কাউন্টারে ফার্মাসিস্ট থাকেন!' তাই রাজ্যের ফার্মেসি কাউন্সিলের এগজ়িকিউটিভ সদস্য দেবাশিস ভট্টাচার্য মনে করেন, 'এই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধান সুষ্ঠু ভাবে করতে গেলে ফার্মাসিস্টদের পেশেন্ট কাউন্সেলিং এবং ক্লিনিকাল ফার্মেসির মতো কোর্সগুলিকে অবিলম্বে তৎপরতার সঙ্গে সব ফার্মেসি কলেজে চালু করতে হবে।' ফার্মাকোলজির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শুভ্রজ্যোতি ভৌমিকেরও পরামর্শ- 'ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্টের সংখ্যা দেশে না বাড়লে এই সমস্যার সমাধান করা মুশকিল।'

চিকিৎসক সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টর্সের সদ্য প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মানস গুমটার মতে, 'দীর্ঘ গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই মানব শরীরে প্রয়োগের ছাড়পত্র পায় প্রতিটি ওষুধ। সেই সব অনুমোদিত ওষুধই লেখেন চিকিৎসকরা। তার পরেও সব ওষুধের সম্ভাব্য কুফল চিকিৎসককেই প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে লিখে দিতে গেলে তো রোগী দেখা লাটে উঠবে!' একই মত আর এক চিকিৎসক সংগঠন ওয়েস্টবেঙ্গল ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কৌশিক চাকীর। তবে তিনি মনে করেন, ওষুধের সুফল-কুফল সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় রোগীকে সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলতেই হবে। কেননা, সেটা জানা রোগীর অধিকার। তবে তাঁর প্রশ্ন, 'আজকাল তো আবার অনলাইনে বিক্রি হয় ওষুধ। সে ক্ষেত্রে রোগীকে ভালোমন্দ বোঝাবেন কে?'

You might also like!