Breaking News
 
WB New Airport : আকাশপথে বাংলার নতুন দিগন্ত! ৪ বিমানবন্দর চালুতে মউ স্বাক্ষর, কলকাতা-ইউরোপ সরাসরি বিমান চালানোর আর্জি মুখ্যমন্ত্রীর CM Suvendu Adhikari: পুজোর আগে ‘কল্পতরু’ শুভেন্দু! ১৪,৪৫৪ নিয়োগ থেকে কর্মবন্ধুদের ভাতা বৃদ্ধি, মমতার মেডিক্যাল রিপোর্ট ইস্যুতেও বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর Milan Pradhan: নন্দীগ্রাম ভোটের আগে বড় স্বস্তি, সুপ্রিম কোর্টে মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন বহাল Bank Fraud Case: ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলায় বড় পদক্ষেপ, ওড়িশা থেকে কলকাতা, একাধিক জায়গায় ইডির হানা SIR row: এসআইআর নিয়ে জ্ঞানেশকে নোটিস শীর্ষ আদালতের, তবে সাসপেনশনের আবেদন খারিজ মঙ্গলবার উপনির্বাচন, তার আগেই নন্দীগ্রামের আইসি বদল! দায়িত্বে জেলার ট্রাফিক ইনচার্জ

 

Country

3 weeks ago

Amit Shah: ভাষাগত বহুত্বই ভারতে 'বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য'-র চেতনাকে সুদৃঢ় করে, অমিত শাহ

Union Home Minister Amit Shah
Union Home Minister Amit Shah

 

নয়াদিল্লি, ১৪ সেপ্টেম্বর : কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোমবার হিন্দি দিবস উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভাষাগত বহুত্বই ভারতে 'বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য'-র চেতনাকে সুদৃঢ় করে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "হিন্দি দিবস উপলক্ষ্যে আমি সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমাদের দেশ ভারত ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির এক অনন্য ভূমি। প্রায়শই আমাদের ভাষাগুলির ভিন্নতা নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং কখনও কখনও একে একটি দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়; কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, এত বিপুল সংখ্যক ভাষার উপস্থিতি আসলে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রতিটি ভাষার সঙ্গেই জড়িয়ে আছে ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং এক স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি—যার সবই আমাদের তরুণ প্রজন্মের মূল্যবোধ গঠনে সহায়তা করে। মূলত এই ভাষাগত বহুত্বই ভারতে 'বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য'-এর চেতনাকে সুদৃঢ় করে।"

অমিত শাহ আরও বলেন, "হিন্দি অন্য কোনও ভাষার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং এটি ভারতীয় ভাষাগুলির মধ্যে অর্থবহ সংলাপ ও জাতীয় সংহতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। আমাদের নিজস্ব ইতিহাসই এই সত্যের শ্রেষ্ঠ প্রমাণ। স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর মাতৃভাষা ছিল গুজরাটি, অথচ তিনি হিন্দিতেই ‘সত্যার্থ প্রকাশ’ রচনা করেছিলেন। মহাত্মা গান্ধী ১৯১৮ সালে মাদ্রাজে ‘দক্ষিণ ভারত হিন্দি প্রচার সভা’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন বাংলাভাষী, কিন্তু তিনি ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’-এর যোগাযোগের ভাষা হিসেবে হিন্দিকেই বেছে নিয়েছিলেন এবং দেশকে ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান উপহার দিয়েছিলেন। বস্তুত, বিভিন্ন পটভূমির মানুষ হিন্দিকে গণ-যোগাযোগের ভাষায় পরিণত করতে অসামান্য অবদান রেখেছেন। যেসব মহান ব্যক্তিত্বের মাতৃভাষা হিন্দি ছিল না, তাঁদের এই অবদান আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণার এক গভীর উৎস।"

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, "আমার নিজের মাতৃভাষা গুজরাটি। কিন্তু দেশের যে কোনও প্রান্তে যখনই আমি যাই, সেখানকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমাকে সরাসরি যে ভাষাটি সংযুক্ত করে, তা হলো হিন্দি। স্বাধীনতার পর ভারতীয় ভাষাগুলোই দেশ গঠন, প্রশাসন পরিচালনা এবং উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হয়ে ওঠে। অন্যান্য ভারতীয় ভাষার পাশাপাশি হিন্দিও জনজাগরণ, জাতীয় ঐক্য এবং স্বাধীনতার আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।" অমিত শাহ আরও বলেন, "১৯৪৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর গণপরিষদ হিন্দি ভাষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছিল। তবে স্বাধীনতার পর এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়: রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জিত হলেও নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মমর্যাদা সংক্রান্ত বিষয়গুলি গুরুত্বের দিক থেকে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। লাল কেল্লার প্রাকার থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী ঔপনিবেশিক মানসিকতা থেকে মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন, আর এই মুক্তির ক্ষেত্রে ভাষা এক কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। ‘রাজপথ’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘কর্তব্য পথ’ রাখাটা কেবল নাম বদল ছিল না; বরং ব্রিটিশ আমলের শাস্তিমূলক আইনগুলির পরিবর্তে তিনটি নাগরিক-কেন্দ্রিক আইন—ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা এবং ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম—প্রণয়ন করা হয়েছিল। এটি কেবল শব্দ পরিবর্তন ছিল না; এটি ছিল আত্ম-গৌরবের পুনরুদ্ধার।"

দেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে অমিত শাহ বলেন, "বিশ্বের যত বেশি সম্ভব ভাষা তোমরা শেখো, কিন্তু নিজের ভাষাকে কখনও পরিত্যাগ করো না। আমি দেশের সকল অভিভাবকের উদ্দেশেও বলতে চাই—তাঁরা যেন অবশ্যই তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে মাতৃভাষায় কথা বলেন। নিজের ভাষায় কথা বললে নিজেকে ছোট মনে হয়—এমন হীনম্মন্যতার চেয়ে বড় কোনও পাপ নেই। কারণ, এই ভাষাই আমাদের মা, মাটি, ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংযুক্ত করে।"

You might also like!