Breaking News
 
India kick off World Cup campaign with a win over America:আমেরিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু ভারতের Weather Forcast: রবিবার শুষ্ক আবহাওয়ার পূর্বাভাস দুই বঙ্গেই West Bengal Budget: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর, ৪ শতাংশ বাড়ল ডিএ, গঠিত হবে সপ্তম বেতন কমিশন Mamata Banerjee: আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী না যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক, কারণ জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় Mamata Banerjee on Suvendu Adhikari: বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণ ঘিরে তীব্র বাকযুদ্ধ, অনুপ্রবেশ বনাম ভিনরাজ্যে বাঙালি নিগ্রহ প্রসঙ্গে মুখোমুখি মমতা–শুভেন্দু West Bengal Budget: সংক্ষিপ্ত রাজ্যপাল ভাষণ ঘিরে বিধানসভায় রাজনৈতিক তরজা, ভোট অন অ্যাকাউন্টের দিনেই শাসক-বিরোধী মুখোমুখি

 

Country

3 weeks ago

TMC vs ED: আইপ্যাক কাণ্ডে ইডির ইমেল বিতর্ক, সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের তীব্র প্রশ্ন

Supreme Court Hears TMC on ED Emails
Supreme Court Hears TMC on ED Emails

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সকাল সাড়ে ৬টায় শুরু হয় আইপ্যাকের কর্তা প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেকে আইপ্যাক অফিসে তল্লাশি অভিযান। কিন্তু স্থানীয় পুলিশকে ইমেল করা হয় সাড়ে ১১টায়,আইপ্যাক মামলায় ইডির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন রাজীব কুমারদের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভির। রাজীব কুমারের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি এ দিন সুপ্রিম কোর্টে বলেন, ”নিজেদের বাঁচাতেই দায়সারাভাবে এই ইমেল করা হয়েছিল। এমনকী অনেক দেরিতে ইডি আধিকারিকদের নিজের পরিচয় দেন।” অপরদিকে তল্লাশি চলাকালীন কেন সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়েছিলেন তাও ব্যাখ্যা করেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। 

সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ—বিচারপতি মনোজ মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলি—‘হাই প্রোফাইল’ আইপ্যাক মামলার শুনানি করছেন। এদিন ইডির পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার মেহতা এবং অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু আদালতে সওয়াল করেন। তারা দাবি করেন, তল্লাশির সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডিসিপি সাউথ ও সিপিকে সঙ্গে নিয়ে জোর করে বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং তদন্তে বাধা দেন। এ ছাড়াও নথি নিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি ই-মেল করে স্থানীয় পুলিশকে প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির কথা আগেই জানানো হয়েছিল বলেও আদালতকে জানান ইডির আইনজীবীরা। 

যদিও এক্ষেত্রে রাজীব কুমারদের আইনজীবী, অভিষেক মনু সিংভির সওয়াল, “আপনারা বলছেন মমতা নথিপত্র নিয়ে গিয়েছেন। আবার পঞ্চনামায় বলছেন তল্লাশি অভিযান শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তাহলে স্পষ্ট করে বলুন, কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যা। আপনারা তল্লাশি শুরু করেছেন সকাল সাড়ে ৬টায়। পুলিশকে ই-মেল পাঠিয়েছেন বেলা সাড়ে ১১টায়। শুধুমাত্র কাগুজে প্রমাণ জোগাড় করার জন্য এটা করা হয়েছে।” যদিও এহেন সওয়ালের তীব্র বিরোধিতা জানান ইডির আইনজীবী। সলিসিটর জেনারেল এহেন বক্তব্যের তীব্র বিরোধীতা করেন। এক্ষেত্রে আইনজীবীর যুক্তি, “ইমেল কখনও ‘ক্যাজ়্যুয়াল’ বা গুরুত্বহীন হতে পারে না। ইমেল করা হয়েছে মানেই তা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়েছে।”

অন্যদিকে কপিল সিব্বল সুপ্রিম কোর্টে বলেন,  “আপনারা জানতেন আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসে তৃণমূলের নানা তথ্য সম্বলিত কাগজপত্র আছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেগুলি ছিনিয়ে নিতেই গিয়েছিলেন। নিজেরাই দাবি করেছিলেন সিজার লিস্ট কিছু নেই। শান্তিপূর্ণভাবে তল্লাশি হয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন।” পাশাপাশি কেন সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়েছিলেন তাও ব্যাখ্যা করেন। কপিল সিব্বলের সওয়াল, “আইপ্যাক তৃণমূলের ভোটকৌশলী সংস্থা। আর তৃণমূল নেত্রী হিসাবে সেখানে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে তাঁর। কেন ইডি একটি রাজনৈতিক দলের অফিসের সেই অংশে ঢুকল? নির্বাচনের সময় কেন এত তৎপরতা?” এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন, “এবার ভোট কি আইপ্যাক করাবে?”। কপিল সিব্বলের সওয়াল, “২০২১ সালে আইপ্যাকের সঙ্গে তৃণমূল চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। সেই সময় থেকে ভোটকৌশল স্থির করে তারা। তা ইডি জানে।”

এই ঘটনায় তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষও মন্তব্য করেন, ”সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে ইডি বিজেপির নির্দেশে যে কাজটা করেছে, আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যা তুলে ধরা হচ্ছে তা এক নয়।” কুণাল ঘোষের কথায়, ”২০২০-২১ সালের আগের মামলা। এতটাই যদি গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে পাঁচ ছয় বছর পর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে কেন আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি?” 

এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ”মামলার সময় আইপ্যাকের কর্তা ছিলেন প্রশান্ত কিশোর। তাঁকে কিছু করা হল না। এখন প্রতীক জৈনের কাছে সংস্থা। এই সংস্থা ভোটের আগে দলকে প্রচারে সহযোগিতা করছে। ঘুরপথে ইডিকে অপব্যবহার করে তথ্য ভাণ্ডার তুলে নিতে চেয়েছিল বিজেপি। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা রক্ষা করতে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।” আইপ্যাক মামলার এই শুনানি সুপ্রিম কোর্টে চলমান থাকায় ইডি, তৃণমূল ও আইপ্যাকের সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। এই মামলার সিদ্ধান্ত ও শুনানি পরবর্তী সময়ে রাজনীতি, নির্বাচন ও আইনি পরিসরে দীর্ঘ প্রতিধ্বনি ফেলবে এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

You might also like!