Country

3 weeks ago

Narendra Modi:কংগ্রেস-বিআরএস ইতিমধ্যেই তেলেঙ্গানায় পরাজয় মেনে নিয়েছে : মোদী

Narendra Modi
Narendra Modi

 

হায়দরাবাদ, ৮ মে : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী, বুধবার তেলেঙ্গানার করিমনগর এবং ওয়ারাঙ্গালে আয়োজিত বিশাল জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময়, কংগ্রেস এবং বিআরএস-এর তোষণের রাজনীতির সত্যতা জনগণের সামনে তুলে ধরেন। এই অনুষ্ঠানে করিমনগরের প্রার্থী মিঃ বান্দি সঞ্জয় কুমার, পেদ্দাপল্লীর প্রার্থী মিঃ গোমাসা শ্রীনিবাস, আদিলাবাদের প্রার্থী মিঃ গোদাম নাগেশ, ওয়ারাঙ্গলের প্রার্থী মিঃ অরোরি রমেশ এবং দলের অন্যান্য বিশিষ্ট নেতারা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

শ্রী মোদী বলেন, গতকাল দেশে তৃতীয় ধাপের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এই পর্যায়ের ভোটের পর কংগ্রেস ও ইন্ডি জোটের তৃতীয় ফিউজও উড়ে গেছে। নির্বাচনের এখনও চারটি পর্যায়ের ভোট বাকি আছে এবং জনগণের আশীর্বাদে বিজেপি এবং এনডিএ দ্রুত বিজয় রথকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে নিজেদের আসন খুঁজছে কংগ্রেস। আমি এখানে যে উত্সাহ দেখছি তা আমাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে যে পরবর্তী পর্যায়ে শুধুমাত্র একটি ম্যাগনিফাইং গ্লাসও যথেষ্ট হবে না, আসনগুলি খুঁজে পেতে কংগ্রেসের একটি মাইক্রোস্কোপের প্রয়োজন হবে। করিমনগরে কংগ্রেসের পরাজয় এতটাই নিশ্চিত যে, কংগ্রেস তার প্রার্থীকে খুব কষ্টে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে রাজি করাতে সক্ষম হয়েছে এবং এই এলাকায় বিআরএসের কোনও চিহ্ন নেই। ৪০ বছর আগে যখন বিজেপির মাত্র ২ জন সাংসদ ছিল, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন ওয়ারাঙ্গল অঞ্চলের। বিজেপির কঠিন সময়েও দলের পাশে দাঁড়িয়েছিল ওয়ারঙ্গল। জনগণের এই উপকারের প্রতিদান দিতে, আমরা আপনাকে বিআরএস এবং কংগ্রেসের শক্ত কবল থেকে বাঁচাতে কোন কসরত রাখব না। এখন মানুষের স্বপ্ন বিকশিত ভারত, বিকশতি তেলেঙ্গানা। জনগণ মোদীরর ১০ বছরের কাজ দেখেছে, জনসাধারণের একটি ভোটে ভারতকে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করেছে, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়েছে এবং ভারত প্রতিরক্ষা আমদানিকারক থেকে প্রতিরক্ষা রফতানিকারকে পরিবর্তিত হয়েছে। আমাদের দেশে কখনই সম্ভাবনার অভাব ছিল না কিন্তু কংগ্রেস সরকার বহু বছর ধরে দেশের প্রতিটি সম্ভাবনাকে ধ্বংস করেছে। দেশের অর্থনীতি, কৃষি এবং টেক্সটাইল সেক্টরগুলি শতাব্দী ধরে ভারতের শক্তি ছিল কিন্তু কংগ্রেস সেটাও ধ্বংস করেছে, এই ধ্বংসের সবচেয়ে বড় কারণ কংগ্রেসই। বিজেপি এবং এনডিএ ১০ বছরে প্রতিটি ক্ষেত্রেই উন্নতি করেছে। বিজেপি কৃষিক্ষেত্রের আধুনিকায়ন করছে। এখন কৃষকরা কিষাণ সম্মান নিধি পাচ্ছেন এবং কৃষকরা ফসল বীমার সুবিধা পাচ্ছেন। এনডিএ সরকার দেশে টেক্সটাইল পার্ক তৈরি করছে। আজ, বিজেপি সরকার উন্নয়ন থেকে আর্থিক সহায়তা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন যে যেখানেই কংগ্রেস বা ইন্ডি জোট ক্ষমতায় আসে, সেই রাজ্য তাদের জন্য এটিএম হয়ে যায়। সম্প্রতি, ঝাড়খণ্ড থেকে রাশি রাশি টাকার পাহাড় উদ্ধার করা হয়েছে, কংগ্রেস সাংসদের বাড়ি থেকে ৩০০ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে । মোদী যখন এই কালো টাকা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তখন তারা মোদীকে গালি দেয়। বিআরএস-এর নীতিগুলিও এসসি এবং এসটি সম্প্রদায়ের সাথে প্রতারণার উপর ভিত্তি করে। ২০১৪ সালে, বিআরএস আপনাকে একজন দলিতকে মুখ্যমন্ত্রী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু যখন সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করার সময় আসে তখন তারা পিছিয়ে যায়। এর তোষণ নীতির কারণে, বিআরএস একটি আইটি পার্ক একটি নির্দিষ্ট বিভাগে উত্সর্গ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ২০১৪ সালে জনগণ যখন বিজেপিকে সুযোগ দিয়েছিল, তখন আমরা একজন দলিত সন্তান শ্রী রাম নাথ কোবিন্দকে রাষ্ট্রপতি করেছিলাম। তারপরে ২০১৯ সালে, জনজাতি কন্যা শ্রীমতি দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি করেছে বিজেপি। কিন্তু কংগ্রেস মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি করার বিপক্ষে কারণ কংগ্রেসের ক্রাউন প্রিন্সের আমেরিকায় একজন 'দার্শনিক এবং পথপ্রদর্শক চাচা' রয়েছেন, যিনি 'থার্ড আম্পায়ার' ( স্যাম পিত্রোদা), তিনি বলেছেন যে কালো চামড়ার লোকেরা আফ্রিকার। গায়ের রঙ দেখে কংগ্রেস ধরে নিয়েছিল যে শ্রীমতি দ্রৌপদী মুর্মু আফ্রিকা থেকে এসেছেন এবং তাই যদি তাঁর গায়ের রং কালো হয় তাহলে তাকে পরাজিত করা উচিত। আমরা শ্রী কৃষ্ণের পূজা করি, তাই গায়ের রঙ আমাদের কাছে কোন ব্যাপার না। যুবরাজের দার্শনিক আজ আমার দেশ নিয়ে যা কথা বলেছেন, গালি দিয়েছেন তা সহ্য করা যায় না। আমরা কি চামড়ার রঙের ভিত্তিতে একজন ব্যক্তির মূল্য নির্ধারণ করতে পারি? যুবরাজকে চামড়ার রং নিয়ে খেলার অনুমতি কে দিয়েছে? এ কথা বলে তারা আমার দেশবাসীকে অপমান করছে।

মাননীয় মোদী বলেন, বিজেপি দেশ-প্রথম নীতিতে বিশ্বাসী কিন্তু অন্যদিকে, কংগ্রেস এবং বিআরএস তেলঙ্গানায় 'পরিবার-প্রথম' নীতিতে বিশ্বাসী। কংগ্রেস এবং বিআরএস সম্পূর্ণভাবে পরিবারতান্ত্রিক। এই দুই দল একই মুদ্রার দুই পিঠ। কংগ্রেস এবং বিআরএস এর জোটের যোগসূত্র হল দুর্নীতি, তোষণের রাজনীতি, জিরো গভর্নেন্স মডেল। তাই বিজেপিকে ভোট দিয়ে তেলেঙ্গানাকে এই দুর্নীতিবাজ দলগুলোর কবল থেকে বাঁচাতে হবে। নিজের পরিবারের স্বার্থে তেলেঙ্গানার সবার স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়েছে বিআরএস। স্বাধীনতার পর মানুষ আশা করেছিল কংগ্রেস দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, কিন্তু কংগ্রেস দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজের পরিবারকে প্রাধান্য দিয়েছিল বেশি। পরিবারতান্ত্রিকতার কারণে কংগ্রেস প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাওকেও অসম্মান করেছিল এবং তার মৃত্যুর পর তার মৃতদেহকে সম্মান পর্যন্ত জানায়নি। বিজেপি-এনডিএ সরকার পিভি নরসিমা রাওকে ভারতরত্ন দিয়ে সম্মানিত করে সত্যিকারের শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। এটা আমার জন্য খুবই আনন্দের যে গতকাল আমি পিভি নরসিংহ রাওজির পরিবারের সাথে দেখা করে এবং তার সম্পর্কে জানতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। তার পরিবারের ৩ প্রজন্মের সাথে দেখা করে, আমি গর্বিত বোধ করেছি। এই পরিবার দেশের জন্য অনেক কিছু করেছে, কিন্তু কংগ্রেস তাদের পরিবারের সাথে যে আচরণ করেছে তা অন্যায়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি কংগ্রেস ও বিআরএস এর জোটের মূল যোগসূত্র। দুজনেই একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করলেও পর্দার আড়ালে দুজনেই একই দুর্নীতির ভাগিদার। বিআরএস ভোটের জন্য কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করত, কিন্তু কখনই এটি তদন্ত করেনি এবং একইভাবে কংগ্রেস বিআরএসকে অভিযুক্ত করতো, কিন্তু কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত এই নিয়ে কোনও তদন্ত শুরু করেনি। এক আর তেলেঙ্গানা লুট করে এবং দিল্লিতে বসে আরেক আর কে টাকা দেয়। কংগ্রেসের যুবরাজ রাহুল গান্ধী গত পাঁচ বছর ধরে আম্বানি-আদানি সহ অন্যান্য শিল্পপতির নিশানা করছিলেন। কিন্তু নির্বাচন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আম্বানি-আদানিদের নাম নেওয়া বন্ধ করে দেন। রাতারাতি আম্বানি-আদানিদের নিশানা করা কেন রাহুল গান্ধী হঠাৎ বন্ধ করলেন সারা দেশের কাছে এর জবাব দিতে হবে যে তিনি কত কালো টাকা নিয়েছেন। কংগ্রেস এবং বিআরএস উভয়ই একত্রে তোষণের রাজনীতি করছে। এত বছর ধরে কংগ্রেস-বিআরএস হায়দরাবাদকে এআইএমআইএম এর কাছে বন্ধক দিয়েছে। কিন্তু এআইএমআইএমকে চ্যালেঞ্জ করেছে বিজেপি। শুধু এআইএমআইএম-ই বিজেপির এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে শঙ্কিত নয়, কংগ্রেস এবং বিআরএস তার চেয়েও বেশি ভীত। হায়দরাবাদে কংগ্রেস এবং বিআরএস উভয়েই এআইএমআইএমকে সমর্থন করছে।

শ্রী মোদী বলেন যে আজ গোটা বিশ্ব অস্থিরতা এবং অশান্তির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই কঠিন সময়ে আমরা আমাদের বাহিনীকে হতাশ হতে দিতে পারি না এবং দেশকে অযোগ্যের হাতে যেতে দিতে পারি না। ১০ কেন্দ্রে আগের কংগ্রেস সরকারের অন্যায় কেউ ভুলতে পারবে না। প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসছিল, যেখানেই কংগ্রেস এসেছে, সমস্যা নিয়ে এসেছে, দেশ শুধু সেগুলো চেয়ে চেয়ে দেখেছে। এবার ইডি জোট নিয়ে এসেছে ৫ বছরে ৫ প্রধানমন্ত্রীর নীতি নিয়ে। এই মানুষগুলো ক্ষমতা পেলে দেশের কী অবস্থা করবে তা কল্পনার বাইরে। প্রতি বছর নতুন নতুন প্রধানমন্ত্রী দিয়ে দেশের উন্নয়ন করা যায় না। কংগ্রেস কীভাবে মানুষকে ধোঁকা দেয় তা তেলেঙ্গানার মানুষের চেয়ে ভালো কেউ জানে না। কংগ্রেস কৃষি ঋণ মকুবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন তারা লোকসভা নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি পিছিয়ে দিচ্ছে। তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্য আমাদের দেবতাদের নামে শপথ করে, অন্যদিকে তারা সনাতন ধর্মকে অপমান করে। তেলেঙ্গানা আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী পরিবারগুলিকে পেনশন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কংগ্রেস পূরণ করেনি, ২৫০ বর্গ গজ জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, মহিলাদের প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কিন্তু আজ পর্যন্ত মহিলারা সেই টাকার জন্য অপেক্ষা করছেন। তেলেঙ্গানায় বিদ্যুৎ ঘাটতি এতটাই বেড়েছে যে মানুষের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই বিশ্বাসঘাতক কংগ্রেস দেশের ও জনগণের কিছু ভাল করতে পারবে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন যে কংগ্রেসের তোষণের রাজনীতির মূল্য সবচেয়ে বেশি দিতে হবে এসসি, এসটি এবং অনগ্রসর শ্রেণীগুলিকে। কংগ্রেস আবার এদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। দেশের সংবিধান ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের বিরুদ্ধে। কিন্তু কংগ্রেস এসসি, এসটি এবং অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণ কেড়ে নিয়ে ধর্মের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির তাদের ভোটব্যাঙ্ককে সেই সংরক্ষণ দিতে চায়। গতকালই ইন্ডি জোটের এক বড় নেতা খোলাখুলিভাবে একটি বিশেষ শ্রেণিকে সম্পূর্ণ সংরক্ষণ দেওয়ার কথা বলেছেন। অথচ এই লোকেরা মাদিগা সম্প্রদায়কে তাদের অধিকার দেওয়ার বিরুদ্ধে। তেলেঙ্গানা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ভক্তির জন্য বিখ্যাত। অযোধ্যায় নির্মিত রাম মন্দিরের স্তম্ভ এবং দরজাগুলি তেলঙ্গানার মানুষের পাঠানো সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। দেশের প্রতিটি মানুষ ভগবান শ্রী রামের দর্শন পেতে চায়। কিন্তু কংগ্রেসের পরিকল্পনা রয়েছে রাম মন্দিরে তালা লাগিয়ে দেওয়ার। প্রাক্তন এক কংগ্রেস নেতা প্রকাশ্যে এনেছেন যে রাহুল গান্ধী রাম মন্দির নির্মাণ বন্ধ করার ষড়যন্ত্র করছিলেন। কিন্তু রাহুল গান্ধী জানেন না যে রাম মন্দির রক্ষা করার জন্য তেলেঙ্গানার মানুষ শুধু রাজ্য থেকেই নয়, গোটা দেশ থেকে কংগ্রেসকে নিশ্চিহ্ন করতে চলেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী জি দেশে আবারো মোদী সরকার গঠন করার জন্য স্থানীয় বিজেপি প্রার্থীদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার সাথে বিজয়ী করে মোদীকে শক্তিশালী করার আবেদন জানিয়েছেন।


You might also like!