Country

3 weeks ago

Champai Soren: সহজেই পাশ করে যাওয়ার কথা চম্পাই সোরেনের! তবে হাল ছাড়েনি পদ্মশিবিরও

Champai Soren (File Picture)
Champai Soren (File Picture)

 

দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃ সোমবারের আস্থাভোটে সহজেই পাশ করে যাওয়ার কথা সে রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোরেনের। তবে ভোটের ফলাফল স্পিকার জানাচ্ছেন, ততক্ষণ শান্তি নেই। বিজেপি যেখানে সরকার গড়তে মুখিয়ে রয়েছে সেখানে জেএমএম-কংগ্রেস-আরজেডি জোট বাড়তি সতর্ক। রবিবার রাতে জেএমএম-কংগ্রেসের ৪০ জন বিধায়ক হায়দরাবাদ থেকে রাঁচি ফিরেছেন। নিয়ে যাওয়া হয়েছে সার্কিট হাউসে। বিজেপি যাতে তাঁদের নাগাল না পায়, তাঁদের অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যান দলীয় নেতৃত্ব।

ইডি হেফাজতে থাকা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনও আজকের ভোট দেওয়ার অনুমতি পেয়েছেন রাঁচির বিশেষ আদালত থেকে। তিনি ভোট প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত বিধানসভার অধিবেশনে থাকতেও পারবেন। ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় আসন সংখ্যা ৮১। আর সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হলে অন্তত ৪১ জন বিধায়কের সমর্থন দরকার। হিসেব বলছে, ঝাড়খণ্ডের শাসক জোটের হাতে বিধায়ক রয়েছেন ৪৮ জন।

এর মধ্যে শাসক জোটে থাকা তিনটি দল ঝাড়খণ্ড জেএমএম-এর ২৯, কংগ্রেসের ১৭ এবং আরজেডি-র ১জন বিধায়ক রয়েছেন। এই জোটকে বাইরে থেকে সমর্থন করে সিপিআইএমএল। তাদের একজন বিধায়ক। অন্য দিকে, বিরোধী বিজেপি এবং তার সঙ্গীদের হাতে রয়েছে মোট ২৯টি আসন। রয়েছেন তিন জন নির্দল বিধায়কও। এই হিসেব মিলে গেলে চম্পাইয়ের সরকারের আস্থা ভোটে জেতা সহজ হওয়ারই কথা।

হেমন্ত গ্রেপ্তার হওয়ার পরে যখন ঝাড়খণ্ডে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন চম্পাই সোরেন, তখন জেএমএম জানিয়েছিল চম্পাইয়ের সঙ্গে ৪৩ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। বাকি চার বিধায়কের সমর্থন কেন নেই তা তখন স্পষ্ট করেনি জেএমএম। পরে জানা যায়, জেএমএমের এক জন বিধায়ক অসুস্থ, তাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের দিন বিধানসভায় তিনি হাজিরা দিতে পারবেন না।

আরও দু’জন জেএমএম বিধায়কও এই আস্থা ভোট এড়িয়ে যেতে পারেন বলে খবর ছিল জেএমএম সূত্রে। বাকি যে একজনকে নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল তিনি লোবিন হেমব্রম। যিনি আস্থা ভোটের ২৪ ঘণ্টা আগে আচমকাই ইঙ্গিত দেন, জেএমএমকে সমর্থন না করার। এই পরিস্থিতিতে ঝাড়খণ্ডের শাসক আর বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে ক্রমশ কমে আসা ব্যবধান চিন্তার ভাঁজ ফেলে জেএমএম জোটের সমর্থকদের কপালে।

কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অধিকাংশই বলছেন, শেষ মুহূর্তে বড় কোনও গোলমাল না হলে ঝাড়খণ্ডের সংখ্যা গরিষ্ঠতার পরীক্ষা পাশ করে যাওয়া উচিত জেএমএম জোট সরকারের। কিন্তু গত এক বছরে এমন সংখ্যার এত পরিবর্তন হয়েছে যে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও সুনিশ্চিত ভাবে কিছু বলছেন না রবিবার রাতেও।

একই সঙ্গে জোটের চিন্তা বাড়িয়েছেন জেএমএম-এর বিধায়ক লোবিন হেমব্রম। দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করারর ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন তিনি। দলের অবশ্য বক্তব্য, আস্থাভোটে অংশ নেবেন লোবিন। একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদ্রোহী বিধায়ক লোবিনও শর্ত সাপেক্ষে জেএমএমকেই সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু কী নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ? তাঁর দাবি, গ্রেপ্তারির আগে তিনি বার বার হেমন্ত সোরেনকে সাবধান করেছিলেন। কিন্তু হেমন্ত পাত্তা দেননি।

যে অভিযোগে ঝাড়কণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি, সেই অভিযোগের সারবত্তা রয়েছে বলেও দাবি করেছেন লোবিন। তাঁর কথায়, ‘আমি হেমন্তকে বহু বার সাবধান করে বলেছি তাঁর আশেপাশের লোকের থেকে তিনি যেন সাবধানে থাকেন। কিন্তু উনি তা শোনেননি। বরং আমাকে অগ্রাহ্য করেন। আমার কথা শুনলে হেমন্তকে এই দিন দেখতে হতো না।’

তা ছাড়া সাঁওতাল পরগনা বিল পাশ না করানো-সহ আরও নানা অভিযোগ তিনি আনেন হেমন্তের বিরুদ্ধে। তবে দলীয় সূত্রে দাবি, তিনি আপাতত ভোট না দেওয়ার জেদ ছেড়েছেন। আজ যখন হেমন্তের সঙ্গে চম্পাইয়ের সাক্ষাৎ হবে তখন হেমন্তের পরিবারের অন্য কোনও সদস্যকে এমএলএ করার প্রস্তাব আলোচনা করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তা ছাড়া হেমন্তের ভাই বসন্ত সোরেনকে ক্যাবিনেট মিনিস্টার করার কথা। এর পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

কংগ্রেসও আশাবাদী, এই আস্থা ভোট জিততে জোটের কোনও সমস্যা হবে না। এ দিকে বিজেপিও রবিবার রাতে হুইপ জারি করেছে দলীয় বিধায়কদের উদ্দেশে। তাঁদের ২৬ জন বিধায়ককে বিধানসভায় হাজির থাকতে বলা হয়েছে।


You might also like!